বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩ টি ওয়ানডে আর ৩ টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার জন নিউজিল্যান্ড দল এখন বাংলাদেশে অবস্থান করছে। আইপিএল এবং পিএসএল এ নিউজিল্যান্ডের নিয়মিত ক্রিকেটারদের একাংশ ব্যস্ত থাকায় বাংলাদেশ সফরে নাম রাখা হয়নি তাদের। ড্যারেল মিশেল, গ্লেন ফিলিপসরা এই সফরে নেই। অন্যদিকে ভিন্ন চিত্র বাংলাদেশের। পিএসএলে অংশ নেয়া খেলোয়াড়দের সরিয়ে নিয়ে এসে বাংলাদেশ সিরিজে মাঠে নামানো হচ্ছে তাদের।
Table of Contents
Toggleক্রিকেট দূরদর্শিতায় পিছেয়ে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ক্রিকেট দূরদর্শিতায় কতটা পিছিয়ে তা হয়তো আগত সিরিজটিকেই দেখলে বোঝা যায়। দু-দলের একটি দল বাহিরের লীগকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলাদেশে তরুন ক্রিকেটারদের সুযোগ দিয়েছে। চলমান আইপিএল এবং পিএসএল এমন দুটি টূর্নামেন্ট যেখানে বিশ্বের প্রায় সব নামী দামী খেলোয়াড়দের মিলন মেলা। যেখানে অংশগ্রহন করলে ভাল শেখার সুযোগও থাকে।
যে সুযোগটাকে মিস করতে চায়নি বাংলাদেশের থেকে ক্রিকেটে এগিয়ে থাকা নিউজিল্যান্ড দল। মাত্র ৫৩ লক্ষ মানুষের দেশের ক্রিকেট বোর্ডের চিন্তা আর ১৮ কোটি মানুষের দেশের চিন্তার পার্থক্য স্পষ্ট। মোস্তাফিজ, রিশাদদের পাশাপাশি পিএসএলে ডাক পাওয়া পারভেজ ইমন, শরীফুল ইসলাম, তানজিদ তামিমদের শেখার এরকম সুযোগ কি হর হামেশা আসে। আর হঠাৎ আসা সুযোগ গুলো বিসিবি কিভাবে কন্ট্রোল করছে?
বিদেশী ক্রিকেট লীগ গুলোতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের উপস্থিতি খুব একটা দেখা যায়না। যেগুলোর অন্যতম কারন বাংলাদেশীদের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বিসিবির ছাড়পত্র পাওয়াও একটা বড় ইস্যু। অথচ এধরনের টূর্নামেন্টে অংশগ্রহন করে পারফর্ম করতে পারলে অন্যদেরও ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যা ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেয়ার অন্যতম একটি চাবিকাঠি। যেখানে বরাবর পিছিয়ে বাংলাদেশ।
তবুও পারফরমেন্সের অপেক্ষা
সব কিছুর পর ১৭ এপ্রিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ক্রিকেটে একটা সময় বাংলাদেশ ওয়ানডে ফরম্যাটে সব থেকে উজ্জ্বল ছিল। সেই ফরম্যাটেও বাংলাদেশে র্যাংকিং এখন ৯ নম্বরে। বাংলাদেশের উপরে রয়েছে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এমনকি আফগানিস্তানও। অথচ এই ফরম্যাটে একটি সময় শ্রীলঙ্কা, আফগানদের উপরে ছিল বাংলাদেশ। নিয়মিত ব্যর্থতায় বাংলাদেশ এখনও সব ফরম্যাটে মামূলী দল।
শুধু ক্রিকেট মাঠের পারফরমেন্সই নয়, মাঠের বাহিরের ক্রিকেট কূটনীতিতেও পিছিয়েছে বাংলাদেশ। নতূন সরকারের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিলুপ্ত করে নতুন অ্যাডহক কমিটি দিয়ে চলছে বাংলাদেশ। ক্রিকেট জ্ঞানে পিছিয়ে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও অংশগ্রহন করতে পারেনি বাংলাদেশ। এই মূহুর্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কে পরিচালনা করবে তাই জানে না বাংলাদেশের ক্রিকেট ফ্যান থেকে শুরু করে ক্রিকেটাররাও।
মেহেদী হাসান মিরাজের অধিনায়কত্বে মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকা দলটির জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ এটি। বাংলাদেশের ঝুলি অবশ্য খালি নয়। ঘরের মাঠে দুবার হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ জয়ের রেকর্ড রয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই সময় পঞ্চপান্ডবের সবাই ছিল। আর এই সিরিজে তাদের কেউই নেই। ফলে বাংলাদেশের জন্য সিরিজটি মোটেও সহজ হবে না।
এই সিরিজে সৌম্য সরকার, আফিফ হোসেনদের দলে ফেরানো হয়েছে। মাহিদুল হাসান অঙ্কন রয়েছে এই সিরিজে। বাংলাদেশ অবশ্য প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য স্কোয়াড দিয়েছে। সিরিজটিতে জয় পেলে আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশকে ভাল আত্ন-বিশ্বাস দিবে। তবে সেই আত্ন-বিশ্বাস তৈরি করতে হবে ভাল খেলেই। খর্ব শক্তির হলেও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল বর্তমান সময়ে ধারাবাহিকতার এক অনন্য নিদর্শন।