নির্বাচকের পদ হারাচ্ছেন অজিত আগারকার

অজিত আগারকারের পদ হারানোর সম্ভাবনা
নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যানের পদ হারানোর পথে অজিত আগারকার

ভারতের ক্রিকেটের নির্বাচকের পদ হারাতে বসেছেন অজিত আগারকার। ধারণা করা হয়, রোহিত শর্মাকে দল থেকে বাদ দেয়ার চিন্তা করেছিল অজিত আগারকার। এমনকি লর্ডস ওয়ানডে তার ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডে হতে চলেছে একথাও নাকি নির্বাচক প্যানেল রোহিত শর্মাকে জানিয়ে দিয়েছিল। যা বোর্ড প্রধানদের চিন্তার সাথে সাংঘর্ষিক হয়েছে। তাছাড়া সর্বশেষ ইংল্যান্ড সফরে ভারতের টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডে পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নয় বিসিসিআই। তাছাড়ও গত ৩ সেপ্টেম্বর বিসিসিআই একটি উচ্চ পর্যায়ের মিটিং করেছিলে যে মিটিংয়ে কিছু কারন দেখিয়ে অংশ নেননি আগারগার। 

এমনিতেই অজিত আগারকারের সাথে বিসিসিআইয়ের চুক্তির মেয়াদ আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত রয়েছে। বিসিসিআই চায়না এই মেয়াদের পর আগারকার নির্বাচক হিসেবে থাকুক। রোহিত শর্মাকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত রোহিত শর্মাকে জানিয়ে দেয়ার পর বোর্ডের সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যায় নির্বাচক প্যানেলে। বিসিসিআই চায় আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপে রোহিত শর্মা আর বিরাট কোহলী খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় ঘোষণা দিক। এর আগে বিরাট আর রোহিত শর্মাকে নিয়ে কোন আলোচনা হোক তা খোঁদ বিসিসিআই চায়না।

এর আগেও অজিত আগারকারও নানা ইস্যুতে বিসিসিআইয়ের প্রতি সন্তুষ্ট ছিলনা। জাসপ্রিত বুমরাহর ইনজুরির সময়ে নির্বাচক প্যানেলকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু বিসিসিআই সেন্টার অফ এক্সসিলেয়ন্স বুমরাহকে ফিট করতে পারেনি। হর্ষিত রানাকে ফিট ঘোষণা করার পর দেখা যায় তিনি হ্যার্মিষ্ট্রং ইনজুরিতে আছেন। এসব অনেক বিষয়ে বিসিসিআইয়ের প্রতি অসন্তোষ ছিল আগারকারেরও। 

অজিত আগারকারের প্রতি ক্ষোভের আরও অনেক কারন ছিল। বিরাট কোহলী আর রোহিত শর্মার মত সিনিয়র ক্রিকেটার থাকার পরও ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের জন্য শুভমন গিলকে দায়িত্ব দেয়া নিয়েও অসন্তোষ ছিল দলে। তাছাড়াও সূর্যকুমার যাদবের মত বিশ্বকাপ জয়ী টে-টোয়েন্টি অধিনায়ককে প্রথমে অধিনায়কের পদ থেকে পরবর্তীতে দল থেকে বাদ দেয়ার বিষয়েও অসন্তোষ ছিল। এরপরও অজিত আগারকার তার চুক্তি দীর্ঘায়িত করা হবে কিনা তা বিসিসিআইয়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন। বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে কোন স্পষ্ট জবাব পাননি অজিত আগারকার। ফলে তিনিও নিজে থেকেই আগেভাগে সরিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন।

ভারতের ক্রিকেটে নির্বাকচ নিয়ে অসন্তোষ নতুন নয়। এর আগেও ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর একযোগে নির্বাচক প্যানেলের ৪ জনকে বরখাস্ত করেছিল বিসিসিআই। সেই প্যানেলে প্রধান নির্বাচকের ভুমিকায় ছিলেন চেতন শর্মা আর তার সহযোগী ছিলেন সুনিল যোশী, হারভিন্দর সিং ও দেবাশীষ মোহান্তী। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে চেতন শর্মা আবার প্রধান নির্বাচকের ভুমিকায় ফিরলেও একটি নিউজ চ্যানেলে বিরাট কোহলী আর সৌরভ গাঙ্গুলীর ইগো দ্বন্দ্ব, বিরাট আর রোহিতের ঝামেলা ও ভারতীয় ক্রিকেটারদের ফিটনেস ইঞ্জেকশন নেয়ার বিষয়ে তথ্য দিয়ে পদ হারান তিনি। অজিত আগারকার  এই দিক দিয়ে ভাগ্যবান তুলনামূলক কম বিষয়ে বিতর্কিত হয়ে পদ হারাতে হচ্ছে তাকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।