সোনালী সময়ের সমাপ্তি পাকিস্তানের

পাকিস্তান ক্রিকেটের সোনালী সময়ের সমাপ্তি
পাকিস্তানের ক্রিকেটের প্রতিকি

পাকিস্তান ক্রিকেটের সোনালী সময়ের সমাপ্তি যে ঘটে গেছে সেটা নিয়ে দ্বিমত করার মানুষ হয়তো আর খুঁজে পাওয়া যাবেনা। সর্বশেষ ইংল্যান্ড সফরে ৩-০ তে টেস্ট সিরিজ হেরেছে পাকিস্তান। তবে ৩-০ তে হারার চেয়ে যেভাবে হেরেছে পাকিস্তান তা নিয়ে অনেক সমোলোচনা হচ্ছে। ভারতের দিনেশ কার্তিক বর্তমান পাকিস্তানকে খুবই অর্ডিনারি দল বলেছেন। ইংল্যান্ড সিরিজে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স এমন ছিল তিন টেস্ট সিরিজের ২ টেস্টে বাজেভাবে হারার পর ৭ জনকে পরিবর্তন করে দেশে ফেরত পাঠিয়েছিল পাকিস্তান।  

অথচ এমন একটা সময় ছিল সর্বকালের সেরা কিছু খেলোয়াড় ছিল এই পাকিস্তান দলে। ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস,ইমরান খান, সাঈদ আনোয়ার, শোয়েব আখতার, ইনজামাম উল হক আরও কত কত নাম ছিল এই পাকিস্তান দলে। ১৯৮০ ও ১৯৯০ দশকের অন্যতম সেরা দল ছিল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। ১৯৯২ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতার পাশাপাশি ২০০৯ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকপ জয়ের স্মৃতি আছে পাকিস্তানের। পাকিস্তানের লিজেন্ডারি ক্রিকেটারদের বিদায়ের পর বাবর আজম, রেজোয়ান, মোহাম্মদ আমিররা বড় স্বপ্ন দেখিয়েছিল পাকিস্তানকে।

কিন্তু ধারাবাহিকতার অভাব পাকিস্তানকে ডুবিয়ে এখন তলানীতে নিয়ে এসেছে। পাকিস্তান ক্রিকেটের সমোলোচনা শুধু পাকিস্তানের বাহিরে নয় খোঁদ পাকিস্তানীরাই যোক্তিক সমোলোচনা করছে পাকিস্তানের। রমিজ রাজা, ওয়াসিম আকরামরা বর্তমান পাকিস্তান ক্রিকেট দলে থাকা ক্রিকেটারদের দায়িত্বহীন পারফরম্যান্স নিয়ে নানা ভাবে সমোলোচনা করছে। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার ব্রড এই পাকিস্তানকে খুবই দুর্বল দল বলে অ্যাখা দিয়েছেন। পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রশাসনিক কার্যক্রমেরও সমোলোচনা করেছেন তিনি।

এমনিতেই আইসিসিতে ভারতের আধিপত্য ঘিরে অনেকটা চাপে থাকে পাকিস্তান। তার মাঝে বর্তমান খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ও প্রশাসনিক দুর্বলতা পাকিস্তান ক্রিকেটকে আরও কোনঠাসা করে তুলেছে। বাংলাদেশ, আফগানিস্তানের মত দলগুলো এক সময় পাত্তাই পেতনা পাকিস্তানের কাছে। সেই দলগুলোর সাথে এখন নিয়মিত হারতে হচ্ছে পাকিস্তানকে। সব মিলেয়ে পাকিস্তানের কাছে যেন কোন সমাধানই নেই সমস্যা থেকে উত্তরনের।

মূলত পাকিস্তানের রাজনৈতিক প্রভাব বিরাজমান ক্রিকেটে। ইমরান খানের পতনের পর মহসিন নাকভির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্যে পড়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে আবেগী সিদ্ধান্ত বেশি করে ভুগাচ্ছে পাকিস্তানকে। খেলোয়াড় আর ক্রিকেট বোর্ডের সম্পের্কের মধ্যে আস্থাহীনতার প্রভাব প্রকট। শুধু ক্রিকেটার নয় ক্রিকেট বোর্ডের স্টাফদের মধ্যেও পরিবর্তন যেন অনেকটা ছেলেখেলার মত। ক্যারিয়ারে বাজে প্রভাব পড়তে পারে এই শঙ্কায় প্রাক্তন ক্রিকেটাররাও নিরবতায় রয়েছে।

পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটও যেন বিশৃঙ্খলার আর এক নিদর্শন। ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে অযথা বার বার পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। চিরাচরিত ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে বের হয়ে এসে মাঝে মাঝে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটকে অনুসরন আবার হুট করে ৬ দল থেকে ২০ দলের ঘরোয়া ক্রিকেটের আয়োজন যেন বিশৃঙ্খলার আরেক নাম। দীর্ঘমেয়াদী কোন চিন্তাই করতে পারছে না পিসিবি। ঘরোয়া ক্রিকেটে এখন পাকিস্তান সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে পিএসএলের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটকে। নগদে আর্থিক লাভবান হওয়ার আশায় টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটকে মূল্য না দিয়ে পিএসএলকে শক্তিশালী করার পথে হাটছে পাকিস্তান।

তাছাড়া বাবর আজম,রেজোয়ানদের মত ক্রিকেটাররা যারা দীর্ঘদিন ধরে অফ-ফর্মে আছেন। তাদের কে নিয়ে পাকিস্তান কন্টিনিউ করবে নাকি দলের বাহিরে রাখবে তাই যেন ঠিক করতে পারছেনা পিসিবি। ফলাফল মাঝে মাঝে দল থেকে বাদ পড়তে হচ্চে বাবর, রেজোয়ানদের। আবার কিছুদিন পরে আবার দলে ব্যাক করছে। মহসিন নাকভিরা না আস্থা রাখতে পারছে আইসিসিতে না স্বয়ং পাকিস্তানে। আবার রাজনৈতিক প্রভাবে পিসিবির দায়িত্বে আসায় ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ নাকভিরা।

পাকিস্তান ক্রিকেটের ঘুরে দাঁড়াতে ক্রিকেট বোর্ডকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে স্বাধীন রাখা অত্যান্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি রমিজ, ওয়াসিম আকরামদের মত ক্রিকেট বোদ্ধাদের দায়িত্বে নিতে হবে। ঘরোয়া ক্রিকেটের বড় ও দীর্ঘমেয়াদী সংস্করন সহ সম্ভবনাময় ক্রিকটারসহ নতুন ক্রিকেটার তৈরির প্লাটফর্ম ঠিক করা পাকিস্তানের জন্য অতি জরুরী। তাছাড়া কোচিং স্টাফদের দীর্ঘমেয়াদী দায়িত্ব দিয়ে পূরো স্টাফদের প্রতি আস্থা রেখে সময় দেয়া অতি গুরুত্বপূর্ন। আর এসব করতে পারলেই হয়তো সোনালী সময়ের হাতছানি দেখতে পারে পাকিস্তান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।