মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ২৬ রানে হেরে গেছে বাংলাদেশ। স্লো উইকেটে ব্যাটিং ব্যর্থতা ডুবিয়েছে বাংলাদেশকে। যা বাংলাদেশ দলের নিয়মিত চিত্র। এই হারে ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে পিছিয়ে থাকল বাংলাদেশ।
Table of Contents
Toggleনিউজিল্যান্ডের মাঝারী সংগ্রহ বাংলাদেশকে হারানোর জন্য যথেষ্ট ছিল
বাংলাদেশকে ২৪৮ রানের মাঝারি লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছিল বাংলাদেশ। বর্তমান সময়ে ওয়ানডেতে ২৪৭ রানকে ভাল সংগ্রহ বলা যায়না। সেটা যে কন্ডিশনেই হোক না কেন। যেখানে টি-টোয়েন্টিতেই হর-হামেশা ২৫০ করে ফেলছে বিভিন্ন দল। সেখানে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ২৪৮ রান তুলে ফেলা আর কঠিন কি। কিন্তু বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে এই রানকেও নিরাপদ ভাবতে পারে বিপক্ষ দলগুলো। বোলিং প্রান্ত থেকে উইকেটের সহায়তা না পেলেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা যে ভূল কবে সেখানে কোন সন্দেহ থাকে না।
কঠিন কন্ডিশনে কিউইদের মাথা ঠান্ডা ব্যাটিং
মিরপুরের কন্ডিশন বরাবর ব্যাটারদের জন্য কঠিন সেটা বাংলাদেশে আশার আগেই দলের খেলোয়াড়দের মনে করিয়ে দিয়েছিলেন অধিনায়ক টম লাথাম। অভিজ্ঞ ওপেনার হেনরি নিকোলাস সে কথা মাথায় রেখে ঠান্ডা মেজাজে ৮৩ বলে ৬৮ রানের ইনিংস খেলে গেছেন। তবে আরেক ওপেনার নিক কেলির বয়স ৩২ হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খুব বেশি অভিজ্ঞতা না থাকায় মিরপুরের কন্ডিশনে মাত্র ৭ রানেই বোল্ড হয়ে যান শরিফুল ইসলামের বলে।
তিন নম্বরে নামা উইল ইয়ংয়ের ইনিংস ৩০ রানের হলেও হেনরি নিকোলাসকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে পার্টনারশীপকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। মিডল অর্ডারে স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার ডিওন ফক্সক্রফট বড় দায়িত্বশীল ব্যাটিং উপহার দেন। তার ৫৮ বলে ৫৯ রানের খুবই কার্যকারী ইনিংস মূলত বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে নিয়ে যায়। আরেক পেস বোলিং অলরাউন্ডার ২১ টি মূল্যবান রান করে নিউজিল্যান্ডকে ২৪৭ রানে পৌঁছাতে বড় অবদান রাখেন।
মোস্তাফিজকে বসিয়ে একাদশ সাজিয়েছিল বাংলাদেশ
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করাতে পিএসএল থেকে মোস্তাফিজকে সরিয়ে নিয়ে আসা যায়। কিন্তু সবাইকে অবাক করিয়ে মোস্তাফিজকে ছাড়াই প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামে বাংলাদেশ। মিরপুরের স্লো উইকেটে মোস্তাফিজের ভ্যারিয়েশন যেখানে অনেক কার্যকরী হতে পারতো সেখানে কেন তাকে একাদশে রাখা গেল না তার জবাব নেই। মোস্তাফিজের দলে না থাকা অবশ্যই স্বস্তির ছিল নিউজিল্যান্ডের জন্য।
বোলিংটা মোটেও ভাল হয়নি বাংলাদেশের
মিরপুরের মত কন্ডিশনে শরিফুল ইসলাম ছাড়া বাংলাদেশের বোলিং ইউনিটের কেউই সুবিধা করতে পারেনি। ১০ ওভার বোলিং করে ২ উইকেট নিয়েছেন শরিফুল দিয়েছেন মাত্র ২৭ রান। গতি দিয়ে আলোচনায় আসা নাহিদ রানা এই উইকেটে ১০ ওভার বোলিং করে ৬৫ রান দিয়ে এই ম্যাচের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বোলার হয়েছেন। আরেক পেসার তাসকিন আহমেদ ৫০ আর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ নিজেও ৫৪ রান দিয়ে এই উইকেট বিবেচনায় খরুচে ছিলেন।
আশা হতাশার সংমিশ্রনে বাংলাদেশের ব্যাটিং
বাংলাদেশের ব্যাটিং এখন যেন আবার ফিরে গেছে ২ যুগ আগে। তৎকালীন যেমন বাংলাদেশের টপ অর্ডাররা হতাশ করত আর মিডল অর্ডার কিছুটা লড়াই করে লোয়ার মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় আবার পরাস্ত হত বাংলাদেশের বর্তমান ব্যাটিং ঠিক সেই রকমই। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও বিশ্বকাপ পরবর্তী আফগানিস্তান সিরিজে ভাল পারফর্ম করেছিলেন সাইফ হাসান। সেই সুবাদে দলের নিয়মিত মুখ এখন তিনি। কিন্তু সেই সফর শেষ করার পর আর নিজেকে খুঁজে পাচ্ছে না সাইফ। যদিও আজকের ম্যাচে শুরুতে জীবন পেয়ে ৫৭ রানের ইনিংস খেলেছেন।
টপ অর্ডারে নামা অপর দুই ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসান তামিম ২ রানে আর নাজমুল হাসান শান্ত গোল্ডেন ডাক মেরে দলকে বিপদে ফেলেছেন। সেখান থেকে মিডল অর্ডারে লিটন কুমার দাসের ৪৬ রান, তৌহিদ হৃদয়ের ৫৫ আর আফিফের ২৭ রানের টানা তিনটি ইনিংসে ভাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের। কিন্তু শেষ ৫ ব্যাটারের কেউই দুই অংক ছুঁতে না পারায় ৪৮ ওভার ৩ বলে ২২১ রানেই অল আউট হয় বাংলাদেশ। আগামী ২০ এপ্রিল সিরিজ জয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে নিউজিল্যান্ড দল।