টিম ইন্ডিয়া দলে বুমরাহ ও হার্দিককে নিয়মিত চায় গম্ভীর

টিম ইন্ডিয়া দলে বুমরাহ ও হার্দিককে নিয়মিত চায় গম্ভীর 26/09/2026 Masud_Muntaha
বুমরাহ ও হার্দিককে দলে রাখতে গম্ভীরের বিশেষ পরিকল্পনা।

টিম ইন্ডিয়া দলে জাসপ্রিত বুমরাহ ও হার্দিক পান্ডিয়াকে অপরিহার্য অংশ মনে করা হয়। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ জয়ের জন্য প্রস্তুত বুমরাহ-হার্দিক পান্ডিয়াকে দলে চান গৌতম গম্ভীর। এমনিতেই এই দুজন ভারতীয় দলের জন্য অনেক বড় সম্পদ। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে বিশ্বকাপে যাতে অংশগ্রহন করতে পারে সেজন্য নিজের মতামত দিয়েছেন তিনি।

সরাসরি বলতে না চাইলেও ফিট না হলে দলে যে রাখতে তিনি রাজি নন একথাই যেন বলতে চাইলেন গৌতম। তিনি মুলত বোঝাতে চেয়েছেন কোন বড় নাম কিংবা অতীত রেকর্ড দিয়ে দলে জায়গা হবে না কারও। বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনি কোন অর্ধ প্রস্তুত খেলোয়াড় নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে যাবেন না। বিশ্বকাপের বিমান ধরতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ গুলোতে সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে দলে থাকতে হবে। গম্ভীর বোঝাতে চেয়েছেন নামে নয় পারফরম্যান্স আর ফিটনেসের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েই দলে জায়গা করে নিতে হবে।

গম্ভীরের কঠোর হওয়ার কারন কি:

  • শুধু নামের কারনে দলে সুযোগ
  • ফিট না হয়েও দলে থাকা
  • পারফর্ম করা খেলোয়াড়েরা বেঞ্চে থাকা
  • পছন্দমত সিরেজে অংশগ্রহন
  • হুটহাট বিভন্ন কারন দেখিয়ে ছুটি নেয়া
  • পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সমস্যা মাঠে নিয়ে আসা

বুমরাহ-হার্দিকরকে টিম ইন্ডিয়া ওয়ানডে খেলাতে গম্ভীরের এই জেদ কেন? আসল কারণটা চমকে দেয়ার মত!

অনেকে হার্দিক পান্ডিয়াা আর বুমরাহকে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না খেললেও দলে রাখার পক্ষে কথা বলেছেন। তবে গম্ভীরের দর্শন একটু উপরে। তার মতে টি-টোয়েন্টিতে ৪ ওভার বোলিং করে ও অল্প কিছু সংখ্যক বলে মোকাবেলা করে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ফিরে পারফর্ম করা কঠিন হবে। তার মতে হার্দিককে দিয়ে শুধু পার্ট টাইম বোলার ফুল টাইম ব্যাটার হিসেবে না খেলিয়ে পুরোদস্তুর ব্যাটিং এবং বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে খেলতে হবে। অন্যদিতে জাসপ্রিত বুমরাহকে শুধু বড় টুর্নামেন্টের জন্য না খেলিয়ে দ্বিপাক্ষিক ম্যাচ খেলিয়ে মূল মঞ্চে জাহির করতে হবে। তা নাহলে ২০২৩ সালের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে ভারতকে

আইপিএলের পারফরম্যান্স কি তবে মূল্যহীন? ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে গম্ভীরের চরম শর্ত!

গম্ভীর মনে করেন আইপিএলের ২ মাসের ধকল নিয়ে পারপরম্যান্স করে জাতীয় দলে এসে পারফর্ম করা সহজ নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নার্ভ আর আইপিএলের নার্ভ আলাদা। অনেক ক্রিকেটার আছে যারা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে পারফর্ম করে জাতীয় দলে এসে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক ম্যাচে পারফর্ম করে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহন করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তার কথায় শুধু জাসপ্রিত বুমরাহ আর হার্দিক পান্ডিয়া নয় মূলত সম্পূর্ণ সিলেকশন প্রক্রিয়ার বিষয়েই গম্ভীর মতামত দিতে চেয়েছেন। উদাহরণ টানতে গিয়ে তিনি বুমরাহ-জাসপ্রিতের কথা বলেছেন।

”নো কম্প্রোমাইজ,ওয়ানালি ট্রফি!” গম্ভীরের এই রণনীতিতে কার কপাল পুড়ছে?

গৌতম গম্ভীর বর্তমানে নামে নয় কাজে পরিচয় নীতিতে রয়েছেন। দীর্ঘদিন যারা ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফর্ম করেও দলে জায়গা পাচ্ছেন না তাদের জন্য থাকবে সুযোগ। আর যেটা করতে পারলে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার সম্ভবান কমে যাবে এটাতেই বিশ্বাসী গৌতম। যে থিমে কাজ করতে গিয়ে অবশ্য চাকুরী হারানো দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন অজিত আগারকার। আর সবকিছু টের পেয়ে আগেভাগেই আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপই বিরাট কোহলীর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শেষ হতে চলেছে তা বিরাট নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন। রোহিত শর্মা বাদ যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে বিসিসিআইয়ের দরজায় গিয়েছেন। ফলে ভারতীয় ক্রিকেট অনেকটা নো কম্প্রোমাইজ নীতির দিকেই যাচ্ছে বোঝা যায়।


কোচের লক্ষ্য:

  • শিরোপা জয়ে চোখ রাখা
  • ফিট খেলোয়াড়দের মাঠে সুযোগ দেয়া
  • ফিট না হলে যে কাউকেই দলের বাহিরে রাখা
  • আইপএলের কারনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সময় না দেয়া কমিয়ে আনা
  • লম্বা সময় ধরে খেলোয়াড়দের ফিট রাখা

বিগ-থ্রির বিদায়ের পর কার কাঁধে ভারতের ওয়ানডের ভবিষ্যৎ? গম্ভীরের কড়া নজর যেখানে!

ভারতের ক্রিকেটে বিগ থ্রি ধরা হয় বিরাট কোহলি, রহিত শর্মা আর রবীন্দ্র জাদজাকে। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ হতে চলেছে ৩ জনের শেষ বিশ্বকাপ। ফিটনেস ইসূতে অনেক আলোচনা থাকলেও এই তিনজনকে ২০২৭ বিশ্বকাপে যেকোন ভাবেই দলে রাখতে চায় বিসিসিআই। গৌতম গম্ভীর এতটাই দুরদর্শী যে আগেভাগেই বুঝতে পেরেছন। এই তিনজনের বিদায়ের পর এক বড় শূন্যতা তৈরি হতে পারে ভারতের ক্রিকেটে। ফলে জাসপ্রিত বুমরাহ আর হার্দিক পান্ডিয়াকে নিয়মিত দলে চান তিনি। যাতে বড় ব্যাকআপ পাওয়া যায়। যদিও শুভমন গিল, নীতিশ কুমার রেড্ডি, রিয়ান পরাগ, বৈভব সূর্যবংশীদের প্রতি আস্থা আছে গৌতম গম্ভীরের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।