অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট সম্রাজ্য হারানোর পথে

ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার একক আধিপত্যের অবসান
বিশ্ব ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার একক আধিপত্য এখন অতীত।

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট কি সম্রাজ্য হারানোর পথে রয়েছে? পুরুষ ক্রিকেট দলের আইসিসি ইভেন্টে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোট ১০টি ট্রফি রয়েছে দলটির। এর মধ্যে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ট্রফি ৬টি, টি-টোয়েন্টি ১টি, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২টি আর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি রয়েছে ১টি। অস্ট্রেলিয়ার ট্রফি জয়ের রেকর্ড অন্য যেকোন দলের চেয়ে অনেক বেশি। তবে সময়ের পরিক্রমায় অন্যান্য দলগুলো নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে নিয়েছে। ফলে এখন আর যেকোন  ইভেন্ট আর সিরিজের আগে অস্ট্রেলিয়া একক ফেভারিট দল নয়।

অস্ট্রেলিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব হারানেরা কারনগুলো হল:

  • রিকি পন্টিং, গ্লেন ম্যকগ্রা, অ্যাডাম গিলক্রিস্টের মত  খেলোয়াড়দের বিদায়
  • ব্যাটিংয়ে দুর্বলতা
  • শেন ওয়ার্নের মত স্পিনারের ঘাটতি
  • ক্রিকেটের প্রতি অস্ট্রেলিয়ার মনোযোগের ঘাটতি
  • পুরোনো ধারার ঘরোয়া ক্রিকেট
  • খেলোয়াড়দের ঘন ঘন বিশ্রাম
  • অফ ফর্মে থাকা খেলোয়াড়দের দিয়ে দল গঠন
  • কোচিং স্টাফে প্রাক্তন ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্তি না থাকা
  • আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে খেলোয়াড়দের ছুটি দিয়ে আইপিএলে পাঠানো
ক্রিকেটে কেন অস্ট্রেলিয়া শ্রেষ্ঠত্ব হারাল
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট শ্রেষ্ঠত্ব হারানোর পেছনে কী কারণ?

ক্রিকেটের বিশ্বায়ন ডুবিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে

বিগত কয়েক বছর আগেও ক্রিকেট বলতে র‌্যাংকিংয়ে থাকা ১০ দলকে বোঝাত। তার মধ্যে আবার প্রথম ৩ থেকে ৪টি দল ছাড়া বাকিগুলো শক্তিতে যোজন যোজন দুরত্বে ছিল। কিন্তু সময় বদলেছে। বিশ্বের প্রায় সব দেশই বর্তমান ক্রিকেটের সাথে যুক্ত। দলগুলিও ক্রিকেটকে আর সাধারণ ভাবে নিচ্ছেনা। সবদলগুলো নিজেদের প্রফেশনাল করে তুলছে। ফলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সাথে দলগুলোর প্রফেশনালিজমের দূরত্ব কমছে। যা অস্ট্রেলিয়ার একক আধিপত্যে চিড় ধরিয়েছে। জিম্বাবুয়ের মত দলের সাথে হেরেও এখন বিদায় নিতে হয় অস্ট্রেলিয়াকে।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে লিগের প্রভাব

একটা সময় ছিল যখন ক্রিকেটে অর্থের ঝনঝনানি কম ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে থাকা খেলোয়াড়গুলোই মোটামুটি অর্থ উপার্জন করতে পারত। বর্তমান বিবেচনায় যা অনেক কম। তবে সময়ের পরিক্রমায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না খেলেও কোটিপতি বনে যাচ্ছেন অনেক ক্রিকেটার। ফলে প্রত্যেক দেশ থেকে তরুন উদীয়মান ক্রিকেটার বের হচ্ছে। যা ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোকে ক্রিকেটার সহজে পেতে সাহায্য করছে। ক্রিকেটের এ ধরনের উন্নতিতে আধিপত্য হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্লেয়ার টু প্লেয়ারের পারফরমেন্স হেড টু হেডের ব্যবধান কমছে। যা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে ছিটকে দিচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের প্রভাব
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের প্রভাব।

গুরুত্ব কম দেয়া

ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হলেও ক্রিকেটের চেয়ে ফুটবলের প্রতি গুরুত্ব বেশি অস্ট্রেলিয়ানদের। এমনকি অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লিগ যেটা অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ফুটবল টুর্নামেন্ট সেখানেও ক্রিকেটের চেয়ে আগ্রহ বেশি। ফলে ক্রিকেটে সেরা হয়েও আগ্রহ বঞ্চিত অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের সাথে সংশ্লিষ্টরা। বিপরীতে ভারত, পাকিস্তান সহ অনেক দেশে ক্রিকেট তাদের প্রধান খেলা। এই পার্থক্যও অস্ট্রেলিয়াকে কিছুটা ব্যাকফুটে ফেলে দিয়েছে।

দেশীয় স্পন্সরদের আগ্রহ কম

ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি সফল হলেও দেশীয় স্পন্সর কোম্পানী গুলোর আগ্রহের তালিকায় ক্রিকেট তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে। এমনকি আইসিসির যে আয় হয় সেই আয়ের ৩৮.৫০ ভাগ ভারত পায় বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ার ভাগ ৬.২৫ ভাগ। এমনকি ইংল্যান্ডের চেয়েও আইসিসি থেকে কম আয় করে অস্ট্রেলিয়া। যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় ক্রিকেটে কতটা আধিপত্য হারিয়ে দলটি। ধারণা করা যায় স্পন্সর কোম্পানী গুলোর অস্ট্রেলিয়ার প্রতি আগ্রহ। তাছাড়াও অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের প্রতি স্পন্সরদের মুখ ফিরিয়ে নেয়ার অন্য কারনগুলো হল: 

  • অনৈতিক অনেক বিষয়ের সাথে ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্তি
  • ফুটবলের প্রতি স্পন্সরদের আগ্রহ
  • দর্শক জনপ্রিয়তায় ক্রিকেট পিছিয়ে থাকা
  • বড় ইভেন্ট আয়োজনে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের অনীহা
  • সুযোগ থাকলেও ক্রিকেটকে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলায় পরিণত করতে না পারা

আইসিসিতে প্রভাব হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া

একটা সময় ছিল আইসিসি নিয়ন্ত্রন করত অস্ট্রেলিয়া। সময়ের পরিক্রমায় সেই নিয়ন্ত্রন এখন ভারতের হাতে। আইসিসিতে অস্ট্রেলিয়ান ২ থেকে ৩ জন চাকুরী করে। নিজেদের আয় কমে যাওয়ার সম্ভাবনা সত্বেও ভারতীয় বিগ থ্রির প্রস্তাবে রাজি হয়েছে দলটি। ফলে এক সময়ের নিয়ন্ত্রাধীন সংস্থাটি এখন হাতছাড়া অস্ট্রেলিয়ার। ভারতের কাছে নথি স্বীকার করে চলতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়াকে।

পারফর্মারদের ‍গুরুত্ব না দেয়া

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট সংকট হওয়ার পিছনে পারফর্মারদের গুরুত্ব না  দেয়ার বিষয়গুলি হল:

  • পিটার হ্যান্ডসকম্ব, মাইকেল নেসার, স্যাম হার্পারদের অবমূল্যায়ন
  • ঘরোয়া ক্রিকেটে সাম্প্রতিক পারফর্মারদের দলে সুযোগ না দেয়া
  • মারনাস লাবুশানের মত অফ ফর্মের খেলোয়াড়দের প্রতি আস্থা
  • ম্যাথু হেডেন, রিকি পন্টিংদের মতামতকে মূল্যায়ন না করা
  • পারফরর্মারদের বিগ ব্যাশে রেখে একই সময়ে সাদামাটা দল দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা
  • স্টিফেন স্মিথদের মত খেলোয়াড়দের অবমূল্যায়ন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।