কলকাতা নাইট রাইডার্স আর শাহরুখ খান মিলে আইপিএলে অনেক ইতিহাস তৈরি করেছেন। আইপিএল ইতিহাসে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে তিনবার শিরোপা এনে দিতে দলটির মালিক শাহরুখ খান মাঠের বাইরে থেকেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বলিউড সুপারস্টার হয়েও ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা থেকেই যৌথভাবে দল কিনে দলকে উজ্জীবিত করে শিরোপার ছোঁয়া নিয়েছেন তিনি। ব্যক্তিত্ব, ভালোবাসা, টিম স্পিরিট তৈরিতে অন্য যেকোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের চেয়ে তিনি অনন্য।
কেকেআর খেলোয়াড়দের অভিভাবকের ভূমিকা পালন
কেকেআরের প্রায় সব ম্যাচেই মাঠে থেকে দলকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেন এই বলিউড বাদশাহ। দলের বাজে পারফরম্যান্সে খেলোয়াড়েরা ভেঙে পড়লে তিনি রেগে না গিয়ে নিজে গিয়ে সান্ত্বনা দেন। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের কারণে তাদের সঙ্গে কখনো খারাপ ব্যবহারের কোনো রেকর্ড শাহরুখের বিরুদ্ধে নেই। উল্টো রিংকু সিংদের খারাপ সময়ে ফোন করে ও ড্রেসিংরুমে গিয়ে সান্ত্বনা দেন তিনি। মানসিকভাবে শক্তিশালী থাকা, ভালো মানুষ হওয়া আর খেলাটাকে উপভোগ করার বিষয়ে তিনি খেলোয়াড়দের মন্ত্র দেন। শোনা যায়, ২০২৪ সালের কোনো একটি ম্যাচের পর খেলোয়াড়েরা যখন ভেঙে পড়েন, তখন ড্রেসিংরুমে গিয়ে খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে শক্ত থাকার কথা বলেন। জীবনে কঠিন সময় আসবে, মাঝে মাঝে প্রচেষ্টা বৃথাও যাবে—এরকম অনেক কথা শোনান কেকেআর খেলোয়াড়দের। তাছাড়া, তিনি সিনিয়র ক্রিকেটারদের বলতেন, যাতে জুনিয়রদের গাইড করা হয়।
আরও পড়ুন: ক্রিকেটে সেরা ৫টি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ
ক্রিকেট ব্র্যান্ডিংয়ে অবদান কেকেআরের
২০০৮ সালে আইপিএলের সূচনালগ্নে আইপিএলে দল কিনে ক্রিকেটের প্রতি নিজের সমর্থন জানান শাহরুখ খান। বিশ্বের দরবারে আইপিএলের ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি ও নিজের ফেমকে কাজে লাগিয়ে আইপিএলের প্রতি স্পনসরদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে বড় অবদান রেখেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও শাহরুখ খান। শুরুতে বলিউডের এই স্টার ফুটবলের ভক্ত ছিলেন। পরে ক্রিকেটে দল কেনার পর ক্রিকেটের প্রতি আসক্ত হন। পরে সিপিএল, মেজর লিগ ক্রিকেট, এমনকি আইএল টি-টোয়েন্টিতেও কেকেআরের ব্যানারে দল কেনেন শাহরুখ। তাছাড়াও, ক্রিকেটের ডেভেলপমেন্টে লস অ্যাঞ্জেলেসে ক্রিকেট গ্রাউন্ড তৈরিতেও অবদান রয়েছে কেকেআরের। কেকেআর মূলত নতুন খেলোয়াড় তৈরিতে সব সময় মনোযোগ দেয়। ফলে দল গঠনের সময় তরুণ ক্রিকেটারদের দলে নেওয়ার বিষয়ে সব সময় আগ্রহী থাকে কলকাতা নাইট রাইডার্স।
আয়ের দিক দিয়েও সেরাদের কাতারে কেকেআর
ক্রিকেটের উন্নয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি আয়ের দিক থেকেও সফল কলকাতা নাইট রাইডার্স। প্রতিবছর বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে আইপিএলের লভ্যাংশের একটি বড় অংশ পায় দলটি। ২০২৬ সালেও বিসিসিআই থেকে ৪৮০ কোটি টাকা পেয়েছে কেকেআর। এ ছাড়া, বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের তারকাখ্যাতির কারণে দলটির স্পনসরশিপ থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় হয়। ইডেন গার্ডেনের টিকিট বিক্রি ও অন্যান্য আর্থিক খাত থেকেও অর্থ উপার্জন করে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের পারিশ্রমিকসহ অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পরও কেকেআরের লাভের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশ ও কলকাতার দর্শকদের সমর্থন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গকে লক্ষ্য করেই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে কেনা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ—দুই জায়গার মানুষই বাংলা ভাষাভাষী হওয়ায় শাহরুখ খানের দলটি দুই অঞ্চল থেকেই ভালো সমর্থন পায়। সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মর্তুজা ও লিটন দাস কলকাতার হয়ে খেলেছেন। সাকিব আল হাসান আটটি মৌসুম কলকাতার হয়ে খেলে ২০১২ ও ২০১৪ সালে শিরোপা জয়ের সাক্ষী হয়েছিলেন। তাছাড়া, পশ্চিমবঙ্গের সৌরভ গাঙ্গুলী, মনোজ তিওয়ারি, মোহাম্মদ শামি ও ঋদ্ধিমান সাহাও এই দলটির হয়ে খেলেছেন। ফলে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে কলকাতা নাইট রাইডার্সের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য।
আন্তর্জাতিক অনেক তারকা কেকেআরের হয়ে খেলেছেন
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিচিত ও স্বনামধন্য প্রায় সব দেশের ক্রিকেটারই শাহরুখ খানের দলের হয়ে খেলেছেন। অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও ক্রিস লিনের মতো তারকারা খেলেছেন দলটির হয়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল ও আন্দ্রে রাসেলও এই দলটির অংশ ছিলেন। তাছাড়া, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, টিম সাউদি ও ইয়ন মরগানও এই দলটির হয়ে খেলে গেছেন। ভারতের ইউসুফ পাঠান, দীনেশ কার্তিক ও গৌতম গম্ভীরও কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে মঞ্চ মাতিয়েছেন। তাছাড়া, রিংকু সিংয়ের মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটার আবিষ্কারেও নাইট রাইডার্সের যথেষ্ট অবদান রয়েছে।