সাকিব আল হাসানকে ছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট কি ভারসাম্য ফিরে পাচ্ছে?

সাকিব আল হাসান ছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট কি ভারসাম্য হতে পারছে?
"মাঠের লড়াইয়ে প্রস্তুত সাকিব আল হাসান—ক্যাপে হাত রেখে চিরচেনা আত্মবিশ্বাসী রূপে।

সাকিব আল হাসান সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ খেলেছেন ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর, ভারতের বিপক্ষে। এরপর সাকিব আল হাসানের দেশে এসে খেলার অনেক গুঞ্জন তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত আর হয়নি। আর হওয়ার সম্ভাবনাও নেই বললেই চলে।

সাকিব আল হাসান যখন এমন একজন অলরাউন্ডার ছিলেন, যিনি বাংলাদেশ দলের সেরা বোলার এবং ব্যাটারও ছিলেন, তখন প্রশ্ন উঠছে—সাকিবকে ছাড়া বাংলাদেশ দল কতটা ভারসাম্য ধরে রাখতে পেরেছে? বিশেষ করে, বাংলাদেশ দলে বর্তমানে নতুন করে একজন জেনুইন স্পিনার ও ব্যাটারের সংকট তৈরি হয়েছে।

সাকিব আল হাসান ওয়ানডে, টেস্ট আর টি-টোয়েন্টি—তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের ভরসার জায়গা ছিলেন। বর্তমানে মেহেদী হাসান মিরাজের ওপর সেই দায়িত্ব কিছুটা বর্তালেও, ব্যাটিংয়ে পারফর্ম করতে না পারা আর বোলিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব ভোগাচ্ছে বাংলাদেশকে। তাছাড়া, মিরাজকে তিন ফরম্যাটে বিবেচনাও করছে না বাংলাদেশ।

টপ অর্ডারের ব্যাটিং ব্যর্থতায় মিডল অর্ডারে সাকিবের মতো দায়িত্ব নিতে পারেননি কেউই। এমনকি শুধু স্পিনেও তাইজুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেনরা জেনুইন স্পিনার হওয়া সত্ত্বেও সাকিবের মতো বোলিংয়ে আশানুরূপ প্রভাব বিস্তার করতে পারছেন না। এমনকি তাঁদের কেউই দলের জন্য নিয়মিত নন।

কেন তিনি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ কেউ ছিলেন?

বাংলাদেশের ক্রিকেট কোনো সময়েই শীর্ষ পর্যায়ে ছিল না। কিন্তু তলানি থেকে স্ট্যান্ডার্ড পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য সাকিবের অবদান ছিল অনেক। ওয়ানডে আর টেস্ট ফরম্যাটে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩৭-এরও বেশি গড়ে রান করেছেন। মেহেদী হাসান মিরাজের গড় টেস্ট ও ওয়ানডেতে ২৪-এর কাছাকাছি।

সাকিব একমাত্র আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়, যিনি একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার ছিলেন। ক্রিকেট ইতিহাসে আর কেউই এটি করতে পারেননি। তাছাড়াও, ২০১৯ বিশ্বকাপে ৬০০-এরও বেশি রান করার পাশাপাশি ১১টি উইকেট নিয়েছেন, যা আর কোনো অলরাউন্ডারের নেই। টি-টোয়েন্টিতেও ১,০০০ রান ও ১০০ উইকেট নেওয়া একমাত্র অলরাউন্ডার তিনি। এসব কিছু শুধু সাকিবের নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও বড় প্রাপ্তি ছিল।

 

কিভাবে বাংলাদেশ সাকিবের অভাব বোধ করছে?

খেলার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট তুলে নিতে সক্ষম ছিলেন সাকিব আল হাসান। ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের ম্যাচে ডেভিড ওয়ার্নার যখন ম্যাচ বের করে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন ওয়ার্নারকে এলবিডব্লিউ করে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন সাকিব।

এ রকম অসংখ্য ম্যাচে অবদান রাখা সাকিবের মতো কাউকে ব্যাকআপ হিসেবে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। ২০১২ সালে এশিয়া কাপে ব্যাটে-বলে অনবদ্য অবদান রেখে দলকে ফাইনালে তোলা, জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠানোসহ অনেক ম্যাচে তাঁর অবদান দারুণভাবে মিস করছে বাংলাদেশ দল।সাকিবের মতো একক নৈপুণ্য দেখিয়ে দলের জন্য বিশেষ কিছু করে দেখানোর অভাবও অনুভব করছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ কি পারবে সাকিবের অভাব পূরণ করতে?

সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের ক্রিকেটে এমন একজন ক্রিকেটার, যার অবদান লিখে শেষ করা যাবে না। বাংলাদেশকে শুধু ক্রিকেটের মাধ্যমে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিত করাতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ের ঘোষণা না দিলেও ব্যাটে-বলে তাঁর মতো অবদানের ধারেকাছেও নেই কেউ। যাঁদের তাঁর বিকল্প ভাবা হয়, তাঁরাও সাকিবকে স্মরণ করেন সম্মানের সঙ্গে।

বাংলাদেশের ক্রিকেট এমন একজন ক্রিকেটারকে হারাতে বসেছে, যাঁর অভাব পূরণ করা প্রায় অসম্ভব। বাংলাদেশের ক্রিকেটে বর্তমানে অনেক অলরাউন্ডার আসছেন-যাচ্ছেন, কিন্তু তাঁদের কেউই দলে স্থায়ী হতে পারছেন না। এমনকি কারও কাছ থেকেই আশানুরূপ পারফরম্যান্সও আসছে না। এই ঘাটতি বাংলাদেশকে আর কত দিন ভোগাবে, তা সময়ই বলে দেবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।