বিশ্বের সেরা ৫ টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ

বিশ্বের সেরা ৫ টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগের লোগো
বিশ্বের সেরা ৫ টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ।

বর্তমান সময়ে ক্রিকেট সময়ের সাথে সাথে অনেক সংস্করনে এসেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগুগলো। আস্তে আস্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে ও পিছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ক্রিকেট। ক্রিকেট কালারের চোখে সেরা ৫ ক্রিকেট লিগ কোনগুলি?

১. আইপিএল

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগের তুলনায় আইপিএলের প্রতিদ্বন্দ্বী আইপিএল নিজেই। আর্থিক ভ্যালু, লিজেন্ড ক্রিকেটার, বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা আর দর্শক চাহিদার শীর্ষ অবস্থানে ভারতের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটি। আইপিএলে বর্তমান ব্যবসায়িক ভ্যালু ২০.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। বাংলাদেশি টাকায় যা ২ লাখ ৫৮ হাজার কোটি টাকার সমান। আইপিএল এমন পর্যায়ে পৌঁছিয়েছে যে এর প্রতি ম্যাচের ভ্যালুর দিক থেকে সব দেশের যেকোন খেলাধুলায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আইপিএলের প্রতিটি দলের মূল্যে অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি ওভারঅল টুর্নামেন্টের মূল্যের চেয়েও বেশি। বিসিসিআইয়ের প্রতি বছরের মোট রাজস্ব আয়ের অর্ধেকেরও বেশি আসে আইপিএল থেকে। 

শুধু আর্থিক মূল্যে দিয়ে নয়, নিজেদেরকেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে চেনাতে আইপিএলে সুযোগের আশায় থাকে ক্রিকেটের সব বড় বড় নামগুলো। বিশ্বের সব দেশের ক্রিকেটারের কাছে আইপিএল এক স্বপ্নের নাম। বিশ্বসেরা কোচিং স্টাফ, সেরা ক্রিকেটাদের সাথে খেলা, বিশ্বের নজড়ে আসার অন্যতম এক মঞ্চ হল এই আইপিএল। 

২. বিগ ব্যাশ

টাকার অংকে আইপিএলের ধারে কাছে না হলেও অস্ট্রেলিয়ার এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের মূল্যায়ন কম নয়। উন্নত ক্রিকেট প্রযুক্তি, বাউঞ্চি উইকেট, ক্রিকেটের বিশ্লেষন বিগ ব্যাশকে আরও আকর্ষনীয় করেছে। যেকোন খেলোয়াড়দের শক্তি আর দুর্বলতার জায়গা গুলোর চুলচেরা বিশ্লেষনে সেরা এই লিগটি।  ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বরাবরই আর্থিক লাভবান হওয়ার চেয়ে ক্রিকেটের ডিভিলপমেন্টকে বেশি মূল্যে দেয়। আর্থিক বিষয়ে নজর না দিলেও বিগ ব্যাশের বানিজ্যিক ভ্যালু বর্তমানে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমমান। বিগ ব্যাশের দলগুলোতে সুযোগ পাওয়া যেকোন খেলোয়াড় সম্মানের মনে করে।

৩. পিএসএল

আইপিএলের সাথে পাল্লা দিতে পিসিবি পিএসএল ক্রিকেটের প্রতি খুব ভালভাবে নজর দিয়েছে। আগে পিএসএল খেলোয়াড় বাছাইয়ে ড্রাফট পদ্ধতিতে গেলেও বর্তমানে অকশন পদ্ধতিতে সংস্করণ করেছে। তাছাড়া পিএসএল লিগকে প্রতি বছরে আইপিএলের আগে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিসিবি। তাছাড়াও পিএসএল লিগে দলগুলোর মধ্যে এতটা ভারসাম্য যে প্রায় প্রতি ম্যাচে ম্যাচের ফলাফল শেষ ওভার পর্যন্ত গড়িয়েছে। শেষ ওভারে ম্যাচ গড়ানোর হার পিএসএল এ ২৭.৫ শতাংশ। তাছাড়াও পাকিস্তানি সমর্থকরা এই আসরটিকে এত ভাল ভাবে গ্রহন করেছে যে প্রতি ম্যাচে গ্যালারি প্রায় কোনঠাঁসা থাকে। টাকার ঝনঝনানি না থাকলেও অনেকে আইপিএলের তুলনায় পিএসএলকে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টুর্নামেন্ট মনে করে।

৪. এসএ টি-টোয়েন্টি লিগ

দক্ষিণ আফ্রিকার এই টি-টোয়েন্টি লিগটি উত্তরন খুব দ্রুতই হচ্ছে। এই লিগটির চাহিদা আস্তে আস্তে এমন পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে যে আইপিএলের পরেই এর অবস্থান অনেকে মনে করছেন। মূলত আইপিএলের দলগুলোর মালিকানায় থাকা এই টুর্নামেন্টের দলগুলো। ভারতীয়দের মালিকানা থাকায় আর্থিক দিক দিয়ে আইপিএলের বাহিরের অন্য আসরগুলোকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে এসএ টি-টোয়েন্টি লিগ। ভারতের মাটিতে আইপিএল মূলত ব্যাটিং প্যারাডাইজ উইকেটে হয়। আর আফ্রিকার মাটিতে টি-টোয়েন্টির আসরটি পেস বান্ধব আর স্পোর্টিং উইকেটে হওয়ায় এই আসরটির গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। ধারণা করা হচ্ছে এক সময় এই আসরটি আইপিএলকেও ছাড়িয়ে যাবে। 

৫. সিপিএল

দ্বীপ রাষ্ট্রে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের আকর্ষন ওয়েস্ট ইন্ডিজের উৎসবের কারনে আরও বেশি আকর্ষনীয় হয়ে উঠেছে। ক্রিকেটের পাওয়ার হিটিং স্পেশালিস্ট বলা হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটারদেকে। অ্যান্দ্রে রাসেল, ক্রিস গেইল, হেটমায়ার সহ আন্তর্জাতিক অনেক তারকা ক্রিকেটাদের অংশগ্রহনে এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টটির মর্যাদাও অনেক বেশি। ক্যারিবিয়ান উইকেটের কন্ডিশনে স্পিন এবং পেস দুটোই সমানভাবে কাজ করে যা এই টুর্নামেন্টের প্রতি খেলোয়াড়দের আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে। 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।