ক্রিকেট থেকে শচীন টেন্ডুলকার বিদায় নিয়েছেন ২০১৩ সালে। তবে ক্রিকেটকে যাঁরা ভালোবাসেন এবং ক্রিকেট অনুসরণ করেন, তাঁরা শচীনকে স্মরণ করবেন না, তা হতে পারে না। আধুনিক ক্রিকেট অনেকটাই বদলে গেলেও আধুনিক ক্রিকেটের ছোঁয়া তিনি অনেক আগেই দর্শকদের দিয়ে রেখেছিলেন। তিনি শুধু ভালো ডিফেন্সই করতেন না, দারুণ সব শট খেলতেন এবং রানের চাকা সচল রাখতেও ছিলেন পটু। তাছাড়া, তাঁর ব্যাটিংশৈলী এতটাই নিখুঁত ছিল যে, তাঁর বিদায়ের এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অনেকেই তাঁকেই সর্বকালের সেরা ব্যাটার মনে করেন।
Table of Contents
Toggleক্রিকেটে কেন শচীন আলোচনায় থাকে?
টি-টোয়েন্টির যুগে এসেও টেস্ট ও ওয়ানডেকে ক্রিকেটের প্রকৃত পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই দুই ফরম্যাটেই টেন্ডুলকার সর্বকালের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ওয়ানডেতে তাঁর রান ১৮,৪২৬ এবং টেস্টে ১৫,৯২১। তাছাড়া, তিনিই একমাত্র ব্যাটার, যিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০টি সেঞ্চুরি করেছেন।
তাঁর স্বদেশি বিরাট কোহলি ৮৬টি সেঞ্চুরি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। তবে কোহলির ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে টেন্ডুলকারের এই রেকর্ড ভাঙা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। ফলে শচীনের এই অনন্য রেকর্ড আদৌ কেউ ভাঙতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
তাছাড়া, শচীন যে সময়ে ক্রিকেট খেলেছেন, সেই সময়ে তাঁকে মুখোমুখি হতে হয়েছে ওয়াসিম আকরাম, গ্লেন ম্যাকগ্রা, ডেল স্টেইন ও শেন ওয়ার্নের মতো বিশ্বসেরা বোলারদের। তাঁদের মতো বোলারদের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য পাওয়া তাঁর অসাধারণ ব্যাটিং দক্ষতারই প্রমাণ। তাই সর্বকালের সেরা ব্যাটারদের তালিকায় অনেক ক্রিকেটপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞই শচীন টেন্ডুলকারকে সবার ওপরে রাখেন।
শচীনকে ভালবাসা মানেই ক্রিকেটকে ভালবাসা
যাঁরা ক্রিকেট ভালোবাসেন এবং ভবিষ্যতে একজন সফল ক্রিকেটার হতে চান, তাঁদের জন্য শচীন টেন্ডুলকার হতে পারেন অন্যতম সেরা অনুপ্রেরণা। তিনি শুধু একজন কিংবদন্তি ব্যাটার নন; তিনি যেন ক্রিকেটের ব্যাকরণ, যাঁর কাছ থেকে শেখার আছে প্রতিটি উদীয়মান ক্রিকেটারের।
তাঁর ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল নিখুঁত মৌলিক দক্ষতা। টাইমিং, ফুটওয়ার্ক, বলের লাইন বুঝে নিজেকে সঠিক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন অসাধারণ। তাঁর প্রতিটি শটের পেছনে ছিল অনুশীলন, ধৈর্য, কৌশল ও নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ। তাই তাঁর ব্যাটিং শুধু উপভোগ করার বিষয় নয়; বরং প্রতিটি শট থেকেই শেখার রয়েছে অনেক কিছু।
শচীনের শ্রেষ্ঠত্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তাঁর দৃষ্টিনন্দন শট দেখে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরাও হাততালি দিতে বাধ্য হতেন। তবে তাঁর মহত্ত্ব শুধু ব্যাটিংয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না। মাঠে ও মাঠের বাইরে তাঁর বিনয়ী আচরণ, মার্জিত কথাবার্তা এবং খেলাটির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা তাঁকে করে তুলেছিল একজন সত্যিকারের আদর্শ।
লিটল মাস্টারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ক্রিকেট বিশ্ব
ক্রিকেটে কত কিংবদন্তি এসেছেন, কত কিংবদন্তি বিদায় নিয়েছেন; কিন্তু এমন কিছু নাম আছে, যাদের কখনো বিদায় হয় না। শচীন টেন্ডুলকার তেমনই এক নাম। ক্রিকেটের ‘লিটল মাস্টার’কে নিয়ে প্রশংসা চলবে, যত দিন ক্রিকেট থাকবে। অবসরের এত বছর পেরিয়ে গেলেও ক্রিকেট নিয়ে যেকোনো আলোচনায় টেন্ডুলকারের নাম আসা যেন অবধারিত। তাঁকে ছাড়া সর্বকালের সেরা একাদশও যেন অপূর্ণ থেকে যায়।
স্যার ডন ব্র্যাডম্যান শচীন টেন্ডুলকারের মধ্যে নিজের ছায়া খুঁজে পেতেন। ব্রায়ান লারাও চাইতেন, তাঁর ছেলে যেন শচীনের মতো ক্রিকেটার হয়। বীরেন্দর শেবাগ মনে করেন, শচীন না থাকলে হয়তো তিনি ক্রিকেটারই হতেন না। অন্যদিকে, ওয়াসিম আকরামেরও বিশ্বাস, টেন্ডুলকারের মতো ক্রিকেটার শতাব্দীতে একবারই জন্ম নেন।
শুধু কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের আলোচনায় নয়, ক্রিকেট মহলের সর্বস্তরেই তিনি চিরকাল আলোচিত হবেন। ক্রিকেট হয়তো চলতে থাকবে অনন্তকাল; কিন্তু ক্রিকেট মানেই যে শচীন টেন্ডুলকার—এই বিশ্বাস ও ভালোবাসা ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনায় বেঁচে থাকবে যুগের পর যুগ।