ভারতীয় ক্রিকেট পেল নতুন সুপারস্টার শুভমান গিল। যার ওপর এখন ভারতীয় ক্রিকেটের ওয়ানডে ও টেস্ট অধিনায়কত্বের ভার। শুভমান গিলের আগে এই দুই ফরম্যাটেই অধিনায়ক ছিলেন আরেক চ্যাম্পিয়ন রোহিত শর্মা। টেস্ট ক্রিকেট থেকে রোহিত শর্মার অবসরের পর ভারত গিলকে টেস্টের অধিনায়কত্ব দেয়। তবে ওয়ানডে ফরম্যাটে এখনো অবসরের ঘোষণা দেননি রোহিত শর্মা। তার আগেই অধিনায়ক হিসেবে সফল রোহিতের পরিবর্তে ওয়ানডেতেও অধিনায়কত্বের ভার দেওয়া হয়েছে শুভমানের ওপর।
Table of Contents
Toggleকোন যোগ্যতায় অন্যদের পিছনে ফেলে অধিনায়ক হলেন তিনি?
আসলে ভারত একজন দীর্ঘমেয়াদি অধিনায়কের ব্যাপারে চিন্তা করেছিল। বিসিসিআই এমন একজনকে চেয়েছিল, যিনি সব ফরম্যাটে দলে অটোমেটিক চয়েস হিসেবে থাকবেন। পাশাপাশি, বয়সের দিকটাও বিবেচনা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। কেএল রাহুল ও জাসপ্রিত বুমরাহর কথা বিবেচনায় থাকলেও তাঁদের বয়স এবং জাসপ্রিত বুমরাহর ঘন ঘন চোটের কারণে তাঁদের বিবেচনার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
শুভমান গিলের বয়স এখন ২৬ বছর। তাছাড়া, আইপিএলে গুজরাট টাইটানসের হয়ে অধিনায়ক হিসেবে যথেষ্ট পরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। অধিনায়ক হওয়ার আগে ওয়ানডেতে দ্রুততম ২,০০০ ও ২,৫০০ রান করার কীর্তি গড়েন শুভমান গিল। মাত্র ৩৮ ইনিংসে ২,০০০ রান এবং ৫০ ইনিংসে ২,৫০০ রান করেছিলেন তিনি। এ ছাড়াও, অধিনায়ক হওয়ার আগে ওয়ানডে ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরেও ছিলেন তিনি। এসব বিষয় বিসিসিআইয়ের অধিনায়ক বেছে নেওয়ার পথ সহজ করে দিয়েছিল।
অধিনায়ক হওয়ার পর কতটা সফল শুভমান?
শুভমান গিল অধিনায়ক হওয়ার পর তাঁর নেতৃত্বে ভারত ১১টি টেস্ট খেলেছে। এর মধ্যে ৬টিতে জিতেছে, ৩টিতে হেরেছে এবং ২টি টেস্ট ড্র হয়েছে। অন্যদিকে, ১৫টি ওয়ানডে খেলে ৮টিতে জয় পেয়েছে এবং ৭টিতে হেরেছে। ভারতীয় দলের বর্তমান অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর নেতৃত্বে জয়-পরাজয়ের পরিসংখ্যান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
তবে অধিনায়কত্বের সময় নিজের পারফরম্যান্সের জন্য যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছেন গিল। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৩৩ বলে ২২৩ রানের ইনিংসটি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও, অধিনায়ক হিসেবে ১১টি টেস্টে ২০টি ইনিংস খেলে ৬টি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। অধিনায়কত্বের সময় টেস্টে তাঁর ব্যাটিং গড় ৬৩.৮৯, যা মাত্র ২০টি ইনিংসে এসেছে।
তবে অধিনায়কত্বের শুরুতে তাঁর পারফরম্যান্সে বিসিসিআই মোটামুটি সন্তুষ্ট। সময় যত গড়াবে, অধিনায়ক হিসেবে তিনি নিজেকে আরও মেলে ধরবেন বলে বিশ্বাস বিসিসিআইয়ের।
অধিনায়কত্বের পিছনের গল্প
শুভমান গিলকে অধিনায়ক করার কথা ভাবলেও এর আগে তাঁকে বেশ খারাপ সময় পার করতে হয়েছিল। ভারত যখন তাঁকে অধিনায়কত্ব দেওয়ার কথা ভাবছিল, তার ঠিক আগের মুহূর্তে সব ফরম্যাটেই রানখরায় ভুগছিলেন শুভমান গিল।
২০২৩ সালে টেস্টে ২৮.৬৬ গড়ে মাত্র ২৫৮ রান করেছিলেন তিনি। এ ছাড়াও, সেই সময় টানা ১২ ইনিংসে কোনো অর্ধশতকও করতে পারেননি শুভমান। এমনকি ২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টিতেও তিনি এতটাই রানখরায় ভুগছিলেন যে তাঁকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডেই রাখা হয়নি।
তাঁর সংকটপূর্ণ সময়ে স্টিভ স্মিথ ও কেন উইলিয়ামসন তাঁকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। এ ছাড়াও, ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার নিজে থেকে ফোন করে তাঁর টেকনিক্যাল সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলেন এবং কোথায় কোথায় সংশোধন আনা দরকার, সে বিষয়ে পরামর্শ দেন। পাশাপাশি, হঠাৎ করে তৈরি হওয়া খ্যাতি ঝেড়ে ফেলে নেট সেশনে নিজের সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করার পরামর্শও দিয়েছিলেন শচীন।
পরবর্তী সময়ে গৌতম গম্ভীরের নেতৃত্বে নিজেকে বদলে ফেলে দলের নিয়মিত পারফরমারে পরিণত হন গিল। তাঁর এই পরিবর্তন বিসিসিআইকেও স্বস্তি দিয়েছিল।
ভারতীয় ক্রিকেটে সুপারস্টার হওয়ার দ্বারপ্রান্তে গিল
ভারতীয় ক্রিকেট মানেই যেন নতুন নতুন ক্রিকেট কিংবদন্তি তৈরির কারখানা। সেই ধারার অংশ হতে চলেছেন শুভমান গিল। তাঁর সামনে সুযোগ রয়েছে সব ফরম্যাটে ব্যাটার ও অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে সেরাদের কাতারে নিয়ে যাওয়ার। নিজের সেরাটা দিতে পারলে বিরাট কোহলি ও শচীন টেন্ডুলকারকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে তাঁর।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ভারত এখনো শিরোপা জিততে পারেনি। ফলে, তাঁর সামনে সুযোগ রয়েছে ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে প্রথমবারের মতো এই শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করার। এ ছাড়া, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতেও অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিয়ে শিরোপা জিততে পারলে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন তিনি।
ভারত শুভমান গিলকে এমন একটি মঞ্চ ও সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে এবং তাঁকে এতটাই সমর্থন করছে যে, এখন তাঁর সামনে নিজেকে প্রমাণ করার বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি নিজেও বিষয়টি বোঝেন। মাঠে নিজের পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই সেই আস্থার মর্যাদা রাখবেন—এমনটাই প্রত্যাশা ক্রিকেট অনুরাগীদের। আর শুভমানও আছেন ঠিক সঠিক পথেই।