চার-ছক্কার ঝড়! টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিংয়ে কেন সবার চেয়ে এগিয়ে ভারত?

চার-ছক্কার ঝড়! টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিংয়ে কেন সবার চেয়ে এগিয়ে ভারত?
চার-ছক্কার ঝড়ে টি-টোয়েন্টিতে অপ্রতিরোধ্য ভারত!

টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ে কেন সবার চেয়ে এগিয়ে ভারত? এই প্রশ্ন এখন সবার। চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে তো সবার সেরা তারা। আর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটটাই তো চার-ছক্কার খেলা। যদি তাই হয়, কেন ভারত সেরা হবে না? যেখানে অন্য দলগুলোর চেয়ে নিজেদের যোজন দূরত্বে এগিয়ে নিচ্ছে ভারত।

ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপে এখন অভিষেক শর্মা আর বৈভব সূর্যবংশীর মতো ওপেনার রয়েছেন, যারা কিনা নিজেদের দিনে যেকোনো কিছুই করতে পারেন। দুজনই তরুণ এবং দুজনই চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছোটাতে সক্ষম। এরই মধ্যে অভিষেক শর্মা ৩৫ বলে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শতরানের দেখা পেয়েছেন। দুজনই ২০০-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করতে পছন্দ করেন। যার প্রমাণ, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৭ ওভারেই দুজন মিলে দলীয় স্কোরকার্ডে ১৩২ রান যোগ করেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই দুজনের মধ্যে কে কাকে ছাড়িয়ে যাবেন, তা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

তাছাড়া তিলক ভর্মার মতো ম্যাচ উইনারও রয়েছে দলটিতে। তিলক ভর্মা ৩ নম্বর পজিশন থেকে ৭ নম্বর পজিশন—যেকোনো জায়গায় ব্যাট করতে সক্ষম। পেস বোলারের বিপক্ষে তিনি বেশি ভয়ংকর। তাছাড়া, ম্যাচের পরিস্থিতি রিড করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে তাঁর। আরেক তরুণ উইকেটকিপার ব্যাটার ইশান কিশানও ম্যাচের প্রথম বল থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হয়ে দলকে এগিয়ে নিতে সক্ষম। ম্যাচের পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, দ্রুত রান তুলতে পছন্দ করেন তিনি। পেস ও স্পিন—যে ধরনের বোলিংই হোক না কেন, দুটিতেই তিনি সমানভাবে রান তুলতে পারেন।

অন্যদিকে ধ্রুব জুরেল, নীতিশ কুমার রেড্ডি, শুভমান গিল, রিংকু সিংয়েরাও কম যান না। সুযোগ পেলে নিজেদের জাত চেনানোর সামর্থ্য আছে তাঁদের। নীতিশ কুমার রেড্ডি ব্যাটের পাশাপাশি পেস বোলিংয়েও অবদান রাখতে সক্ষম। শুভমান গিল তো ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের সুপারস্টার ক্রিকেটার। রিংকু সিংকে ফিনিশার হিসেবে তৈরির চেষ্টা করছে ভারত। ফলে ব্যাটিংয়ে কাউকে ছেড়ে কথা বলা যায় না।

 

পাওয়ার হিটিং নাকি নিখুঁত টেকনিক, কেন টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ে এগিয়ে ভারত?

ভারতের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের অন্যতম মন্ত্র হলো ভয়ডরহীন ক্রিকেট। অন্য দলগুলো যখন শুরুতে কিছুটা সেট হতে সময় নেয়, সেখানে ভারতীয় ক্রিকেটাররা প্রথম বল থেকেই রান তুলতে পছন্দ করেন। তাছাড়া, পেস ও স্পিন—দুই বিভাগেই ভারত শক্তিশালী। অন্যান্য দলগুলোর ব্যাটারদের মধ্যে কেউ পেস বোলিংয়ে ভালো হলে স্পিনে দুর্বল। আবার কারও মধ্যে পেস বোলিংয়েও দুর্বলতা দেখা যায়। ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ এতটাই শক্তিশালী যে বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়রাও সুযোগ পেলে নিজেদের উজাড় করে দিয়ে দলে জায়গা করে নিতে চান। ফলে ভারতীয় দলে পারফর্ম না করে টিকে থাকা সম্ভব হয় না। অন্য খেলোয়াড়েরা দলে জায়গা ধরে রাখতে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করেন। উদাহরণস্বরূপ, সূর্যকুমার যাদবের মতো একজন খেলোয়াড়, যিনি কিনা ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক, তাঁকেও ধারাবাহিকতার অভাবে ভারত দল থেকে বাদ দিয়েছে। যেখানে বাংলাদেশের মতো দলগুলোতে পারফরম্যান্স না করেও দীর্ঘদিন দলে থাকা যায়, সেখানে ভারত পুরোই ব্যতিক্রম।

প্রযুক্তি ও পরিসংখ্যানের ব্যবহারে কীভাবে এগিয়ে ভারতীয় ব্যাটাররা?

ক্রিকেটারদের মান উন্নয়নে যতগুলো প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়, তার সবগুলোই ব্যবহার করে ভারত। তাদের প্রযুক্তি এতটাই উন্নত যে ব্যাটের সুইং, মাথার পজিশন, টাইমিং—সবগুলোই তারা অ্যানালাইসিস করে ব্যাটারদের দুর্বলতাগুলো বের করতে পারে। পরে সেই দুর্বলতাগুলো কাটানোর জন্য হাই-প্রোফাইল কোচের অধীনে কাজ করেন অভিষেক ও সূর্যবংশীরা। তাছাড়া, শারীরিক ক্লান্তি ও ইনজুরি এড়ানোর জন্য জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মতো সিস্টেম ব্যবহার করে খেলোয়াড়দের ফিটনেসও পর্যবেক্ষণ করতে পারে ভারত। ক্রিকেট নিয়ে এত এত অ্যানালাইসিস বর্তমান সময়ে আর কোনো দেশের ক্রিকেটে নেই, যা ভারতকে সেরাদের সেরা হতে সাহায্য করছে।

তরুণ প্লেয়ারে ইনভেস্টমেন্ট: বিশ্বমঞ্চে ভারতের একচেটিয়া অর্থনৈতিক রিটার্ন

তরুণ ক্রিকেটারদের প্রতি বিসিসিআইয়ের বিনিয়োগের রিটার্নও পাচ্ছে ভারত। মাঠের পারফরম্যান্স তো আছেই, সঙ্গে আইসিসির আয়ের সিংহভাগই পায় ভারত, যা বিসিসিআইকে বিলিয়নিয়ার বানিয়ে দিয়েছে। খেলোয়াড়দের প্রতি ইনভেস্টমেন্টের পর রিটার্নের হার এত বেশি যে, সামনে বিশ্বের সব ধরনের খেলার মধ্যে ক্রিকেট থেকে ভারতের আয় এক নম্বরে যেতে পারে। ফলে স্পনসরশিপের প্রধান আকর্ষণ এখন টিম ইন্ডিয়ার দিকে। খেলোয়াড়দের প্রতি স্পনসরদের আগ্রহে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ভ্যালু বেড়েছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো খেলোয়াড় আর ভারতের ক্রিকেটে ইনভেস্টমেন্ট করার জন্য মুখিয়ে থাকে। ফলে কাড়ি কাড়ি টাকার বস্তা নিয়ে স্পনসর কোম্পানিগুলোকে পিছনে পড়ে থাকতে হচ্ছে। ফলে ক্রিকেট ভারতের অর্থনৈতিক মডেলকেই পরিবর্তন করে দিয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।