বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত একক পরাশক্তি হওয়ার পথে

বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত একক পরাশক্তি হওয়ার পথে
বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য বিস্তারের পথে ভারতীয় ক্রিকেট দল।

বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত একক পরাশক্তি হওয়ার পথেই রয়েছে। এক সময়ে অস্ট্রেলিয়াকে একক পরাশক্তি মানা হত। তবে সময়ের পালাবদলে তা এখন ভারতের দখলে যাওয়ার পথে। সাম্প্রতিক সময়ে মাঠ এবং মাঠের বাহিরের ক্রিকেটে ভারতের যে আধিপত্য এতে একথা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই।

ক্রিকেট বিশ্বের একক পরাশক্তি হওয়ার পথ নির্ধারিত হয় মূলত মাঠের পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে। ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভারতের বর্তমান অবস্থান ১ নম্বরে আর টেস্টে ৪ নম্বরে। তাছাড়াও ২০২৪ ও ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ব্যাক টু ব্যাক চ্যাম্পিয়ন ভারত। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিজেদের করে নেয়ার পাশাপাশি সর্বশেষ এশিয়ান গেমসেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। এসব কিছুই ভারতের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়।

অর্থনৈতিক ভাবেও সবচেয়ে শক্তিশালী ক্রিকেট বোর্ড ভারতের

ভারতের মাঠের পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়েছে অর্থনৈতিক উপার্জনেও। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড এখন বিসিসিআই। এমনকি ক্রিকেটে একমাত্র বিলিওনিয়ার ক্রিকেট বোর্ডও ভারতের। যাদের অর্থের পরিমান প্রায় ২.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ে ২৮ ‍গুন বেশি। তাছাড়াও বিসিসিআই আইসিসির আয়ের ৩৮.৫ ভাগ পায়। এছাড়াও আইপিএল থেকে কোটি কোটি ডলার আয় করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই।

ক্রিকেট নিয়ে গবেষণায় ভারত সেরা

ক্রিকেট ভারতকে প্রায় সবকিছু দিয়েছে। অর্থ,আধিপত্য আর সম্মান সবকিছুই। আর যেখান থেকে ভারত এতকিছু পেয়েছে সেটার মান আরও উন্নয়নে সেন্টার অফ একসিলেন্সের ব্যানারে গবেষণা শুরু করেছে ভারতে। এতে রয়েছে প্রতিপক্ষ ও নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা বের করার অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তি। মাঠের পিচ নিয়ে গবেষণাা। খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মত সিস্টেম চালু রেখেছে ভারত। ফলে সব খেলোয়াড়দের ফিটনেস লেভেল সম্পর্কে জানতে পারছে ভারত। তাছাড়াও মুহুর্তের মধ্যে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের জন্যও রয়েছে ভারতের আধুনিক প্রযুক্তি।

আইপিএলের প্রভাব ও নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ

আইপিএলের মাধ্যমে ভারত শুধু অর্থ উপার্জন করছে তা নয়। নতুন নতুন খেলোয়াড় উঠে আসার ক্ষেত্রে আইপিএলে যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। সূর্যবংশী, অভিষেক শর্মার সহ নজরে আসার মত অনেক খেলোয়াড় উঠে আসছে এই আসর থেকে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার আগে হাই প্রফাইল কোচিং ও খেলোয়াড়দের কাছে এসে ম্যাচ খেলোর সুযোগ পাচ্ছে ভারতের তরুন ক্রিকেটাররা। বর্তমান ও অতীতের সব লিজেন্ট ক্রিকেটার আর স্টাফদের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়ে নিজেদের আগেভাগেই তৈরি করতে পারছে ভারতের ক্রিকেটারা। বিপিএল, বিবিএল, পিএসএল অনেকটা সাদামাটা ভাবে আয়োজন হওয়ায় আইপিএলের মত প্লেয়ার উঠে আসা সম্ভব হচ্ছে না। যা ভারতকে বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য বিস্তারে প্রভাব রাখছে।

ক্রিকেট বোর্ডের ভারসাম্যর প্রভাব

ক্রিকেট বোর্ডের ভারসাম্য রক্ষায় বিসিসিআই বরাবরই সেরা। উপমহাদেশীয় সব দেশের ক্রিকেট বোর্ডই বিভিন্ন কারনে প্রশ্নবিদ্ধ। সেখানে বিসিসিআই একটি সুশৃঙ্খল ক্রিকেট বোর্ড হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে থাকলেও যেকোন নিয়ম ভঙ্গ ও নতুন নিয়ম তৈরিতে বাধ্য করার এখতিয়ার নেই। তাছাড়া ৩৮ টি অঙ্গ রাজ্যের প্রতিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্বাধীনভাবে কাজ করে। কেন্দ্র থেকে কোন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হয়না। ফলে ভারতীয় ক্রিকেটে বিভাজন তৈরি হয়না। কোন বিষয়ে মতের অমিল আসলে তখন বিসিসিআই অভিভাবক হিসেবে কাজ করে সমস্যার সমাধান করে দেয়।

অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ডকে পিছনে ফেলছে ভারত

ক্রিকেটের জন্ম ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার হাত ধরে হলেও তার নিয়েন্ত্রন এখন ভারতের হাতে। এমনকি ক্রিকেট সংস্থা আইসিসিও নিয়ন্ত্রনে নিয়েছে ভারত। ক্রিকেটীয় সুযোগ সুবিধা ও ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ এখন ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ভারতের বেশি। ভারতে এসে ইংলিশ ও ক্যাঙ্গারুদের কন্ডিশনে মানিয়ে নিয়ে জয় পাওয়া কঠিন করে তুলেছে ভারত। বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ও ইংলিশ কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিয়ে এখন সেই সব কন্ডিশনেও সিরিজ জয়ের রেকর্ড তৈরি করছে ভারত। যা আগামী সময়ে আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে ধরেই নেয়া যায় ক্রিকেটে একক পরাশক্তি হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে ভারত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।