দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশ দল ব্যাটার খরায় কাটাচ্ছে। টপ অর্ডারে তানজিম তামিম, নাজমুল হক শান্তরা পারফর্ম করতে না পারলেও বিকল্প অপশন ছিল না বাংলাদেশের হাতে। তবে সর্বশেষ এশিয়া কাপের পর থেকে বাংলাদেশ দলে সাইফ হাসান, পারভেজ ইমনরা আসায় ব্যাটারা একটি সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়েছে।
Table of Contents
Toggleটপ অর্ডারে কি ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশের ব্যাটাররা
সর্বশেষ এশিয়া কাপে তানজিদ তামিমের সাথে ওপেনিং হিসেবে সুযোগ পেয়েছিল পারভেজ ইমন। পাশাপাশি সাইফ হাসান দলের সাথে সংযুক্ত হয়ে ব্যাটিংয়ে ঝলক দেখানোয় পিছিয়ে পড়েছে পারভেজ ইমন। ৪ ইনিংস ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৪৪.৫০ গড়ে এশিয়া কাপে ১৭৮ রান করেন সাইফ। যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪৫ বলে ৬১ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছেন। ভারতের বিপক্ষেও ৬৯ রানের ঝলমলে ইনিংস রয়েছে সাইফ হাসানের।
সাইফ হাসানের ভাল পারফরম্যান্সে দলে জায়গা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ ইমনদের। তাছাড়া সৌম্য সরকার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে জায়গা পেয়ে ওডিআইতে মোটামুটি ভাল পারফর্ম করেছেন। যার মধ্যে সিরিজ জয়ের ম্যাচে ৯১ রান করেন সৌম্য। সাইফ হাসান ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে আপাতত ওপেনারের জায়গাটা পাকা করে তুলেছেন। ফলে তার সঙ্গী হতে লড়তে হবে সৌম্য, তানজিদ তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমনকে
অধিনায়ক লিটন দাস কি জায়গা ধরে রাখতে পারবেন?
শুধু ওপেনিংয়ে নয় মিডল অর্ডারেও শুরু হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সৌম্য সরকার, পারভজ ইমনদের সাথে পাল্লা দিয়ে নিজের পজিশন ধরে রাখতে হবে লিটন কুমার দাসকে। যদিও তিনি টি-টোয়েন্টিতে বর্তমানে ফর্মে রয়েছেন। তবে ভাল দলগুলোর বিপক্ষে রান না পাওয়া অনেকটা ভাবাবে তাকে। তাছাড়া বাংলাদেশ সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজগুলাতে তেমন কোন বড় দলের বিপক্ষেও মাঠে নামেনি। উল্লেখযোগ্য বড় দলের মধ্যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ খেললেও শ্রীলঙ্কার বর্তমান বোলিং লাইন আপের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
লিটন কুমার দাসের সর্বশেষ ১৫ টি-টোয়েন্টি ইনিংস
| ম্যাচ নং | প্রতিপক্ষ | ভেন্যু | রান (বল সংখ্যা) |
|---|---|---|---|
| ১ | শ্রীলঙ্কা | দুবাই | ২৩ (১৬) |
| ২ | আফগানিস্তান | আবুধাবি | ৯ (১১) |
| ৩ | শ্রীলঙ্কা | দুবাই | ২৮ (২৬) |
| ৪ | হংকং | দুবাই | ৫৯ (৩৯) |
| ৫ | নেদারল্যান্ডস | ঢাকা | ৭৩ (৪৬) |
| ৬ | নেদারল্যান্ডস | ঢাকা | ১৮* (১৮) |
| ৭ | নেদারল্যান্ডস | ঢাকা | ৫৪* (২৯) |
| ৮ | পাকিস্তান | করাচি | ১ (৪) |
| ৯ | শ্রীলঙ্কা | ডাম্বুলা | ৩২ (২৬) |
| ১০ | শ্রীলঙ্কা | ডাম্বুলা | ৭৬ (৫০) |
| ১১ | শ্রীলঙ্কা | ডাম্বুলা | ৬ (১১) |
| ১২ | সংযুক্ত আরব আমিরাত | দুবাই | ১৪ (১০) |
| ১৩ | সংযুক্ত আরব আমিরাত | দুবাই | ৪০ (৩২) |
| ১৪ | সংযুক্ত আরব আমিরাত | দুবাই | ১১ (৮) |
| ১৫ | যুক্তরাষ্ট্র | প্রেইরি ভিউ | ২৫ (২০) |
মিডল অর্ডারে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা
তাওহীদ হৃদয়, জাকের আলী অনিক, শামীম পাটোয়ারী, নুরুল হাসান সোহনরা বর্তমানে টি-টোয়েন্টিতে মিডল অর্ডার সামলাচ্ছেন। তবে সবার ব্যাটিং স্টাইল এবং লম্বা ইনিংস খেলার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উইকেট রক্ষক ব্যাটার হিসেবে খেলা সোহান ৫২ ম্যাচ খেললেও টি-টোয়েন্টিতে এখনো কোন অর্ধ শতকেরও দেখা পাননি। ৪৪ রান সোহোনের টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ। তারপরও জাকের,সোহান, শামীমরা যে ধরনের ব্যাটিং এপ্রাচ দেখিয়েছেন সেটা কোন মহলেই ভাল চোখে দেখা হচ্ছে না। তবে তাওহীদ হৃদয়ের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা থাকলেও তার ব্যাটিং সক্ষমতা নিয়ে কারো কোন সংশয় নেই।
মিরাজকে টি-টোয়েন্টিতে বিবেচনায় না নেয়া কতটা যোক্তিক?
সাম্প্রতিক সময়ের সিরিজ এবং টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টগুলিতে মেহেদী হাসান মিরাজকে বিবেচনায় রাখছেন না বিসিবি। ওয়ানডে ফরম্যাটে অধিনায়কত্ব পালন করলেও টি-টোয়েন্টিতে মেহেদী হাসান মিরাজকে বিবেচনায় না রাখার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মিডল অর্ডার ব্যাটারদের যেখানে ব্যাটিং সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন সেখানে মেহেদী হাসান মিরাজ হতে পারত ট্রাম কার্ড। সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশ একজন অলরাউন্ডারের অভাব মিডল অর্ডারে ভালো করে ভুগছে। সেখানে ওয়ানডে অধিনায়ককে অব মূল্যায়ন নতুন করে প্রশ্নের তৈরি করছে।
মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসেবে মিরাজের স্ট্রাইক রেট এবং ব্যাটিং গড় নিয়ে প্রশ্ন তুললেও টপ অর্ডার ব্যাটারদের নিয়মিত ব্যর্থতাও তো এটার বড় কারন। তাছাড়া তাকে ছাড়া যাদেরকে দিয়ে মিডল অর্ডারদের সামলাতে চাচ্ছে বিসিবি তারা কি মিরাজের চেয়ে খুব ভাল পারফর্ম করতে পেরেছেন?
বর্তমান সময়ে র্যাঙ্কিংয়ে সেরা দশে থাকা দলগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র মেহেদী হাসান মিরাজ একমাত্র খেলোয়াড় যে ওয়ানডে অধিনায়ক হওয়ার পরও টি-টোয়েন্টিতে বিবেচিত হচ্ছেন না। তবে বাংলাদেশ দলের মিডল অর্ডারে মেহেদী হাসান মিরাজকে সুযোগ দিয়ে পরিপক্ক করে তোলার দায়িত্ব বিসিবির ছিল। এক্ষেত্রে বিসিবি কেন দুরদর্শীতা দেখাতে ব্যর্থ তা জানা নেই কারো।
| খেলোয়াড় | ম্যাচ (M) | ইনিংস (Inn) | রান (R) | সর্বোচ্চ স্কোর (HS) | গড় (Avg) | স্ট্রাইক রেট (SR) | ৫০+ | চার (৪) | ছক্কা (৬) |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| জাকের আলী | ৪৫ | ৪০ | ৭১০ | ৭২* | ২৬.৩০ | ১২৩.৬৯ | ৩ | ৩৮ | ৪০ |
| মেহেদী হাসান মিরাজ | ৩৪ | ২৯ | ৪১৮ | ৪৬ | ১৬.৭২ | ১১৬.৭৬ | ০ | ৩৭ | ১০ |
| মাহেদি হাসান | ৬৭ | ৪৬ | ৪২১ | ৩৩ | ১১.৬৯ | ১০০.৪৮ | ০ | ৩০ | ১৪ |
| নুরুল হাসান | ৫২ | ৪৭ | ৫৫৯ | ৪২* | ১৯.৯৬ | ১২২.৩২ | ০ | ৩১ | ২৩ |
| শামীম পাটোয়ারী | ৪৪ | ৩৬ | ৫৭৭ | ৫১ | ১৯.৯০ | ১২৪.৮৯ | ১ | ৫৩ | ২০ |
সব মিলিয়েও স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ
তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও পঞ্চপান্ডবের বিদায়ের পর যেধরনের সংকট দেখা দিয়েছে তার কিছুটা ঘাটতি পূরনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বাংলাদেশ দলে। সাইফ হাসান, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনদের পারফরমেন্স ও সৌম্য সরকারদের ফর্মে আসার ইঙ্গিত ভাল দিনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে বাংলাদেশকে। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে লেগ স্পিনারের ঘাটতি পূরনে অনেকটা সক্ষম হয়েছে রিশাদ হোসেন। তাছাড়া লোয়ার অর্ডারে দ্রুত রান তুলতেও সক্ষম রিশাদ।
সব মিলিয়ে পারফর্ম না করে দলে টিকে থাকাটা বর্তমান সময়ে অনেকটা কঠিন হতে পারে বাংলাদেশ দলে। নাজমুল হাসান শান্তরা ইতিমধ্যে টি-টোয়েন্টিতে বিবেচিত হচ্ছেন না। তাওহীদ হৃদয়, তানজিদ তামিমদেরও পারফর্ম করতে না পারলে বেঞ্চে বসতে হচ্ছে। জাকের আলী, নুরুল হাসানরা পারফর্ম করতে না পারলে জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সব মিলিয়ে অনেকটা পথ ফিরে পাওয়ার উপক্রম বাংলাদেশ দলের। এখন শুধু পারফর্ম করে ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পালা।