বাংলাদেশ টেস্ট স্কোয়াড কেমন হল আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের জন্য? সংযুক্ত আরব আমিরাতে আগামী ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তানের মধ্যে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি অনুষ্টিত হবে। তার আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। যেখানে ১৫ জনকে স্কোয়াডে রাখা হয়েছে আর ট্রাভেলিং রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছে ৩ জনকে।
Table of Contents
Toggleবাংলাদেশের স্কোয়াড:
রিগুলার ১৫ জনের স্কোয়াড:
ব্যাটার: স্কোয়াডে মুল ব্যাটার আর উইকেটপিকাপ ব্যাটার মিলে রয়েছেন ৮ জন:
১. নাজমুল হোসেন শান্ত
২. তানজিদ হাসান তামিম
৩. সাদমান ইসলাম
৪. মোমিনুল হক
৫.মুশফিকুর রহিম
৬. লিটন কুমার দাস
৭. তাওহীদ হৃদয়
৮. জাকের আলী অনিক
বোলার: স্কোয়াডে থাকা ৪ জন বোলার হলেন:
১. হাসান মাহমুদ
২. তাইজুল ইসলাম
৩. সৈয়দ খালেদ আহমেদ
৪. ইবাদত হোসেন চৌধুরী
৫. শরিফুল ইসলাম
অলরাউন্ডার: স্কোয়াডে থাকা ২ জন অলরাউন্ডার হলেন:
১. মেহেদী হাসান মিরাজ
২. সৌম্য সরকার
ট্রাভেলিং রিজার্ভ: দলে ট্রাভেলিং রিজার্ভ বা অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে রয়েছেন:
১. ইকবাল হোসেন ইমন
২. মুশফিক হাসান
৩. নাঈম হাসান
দলে নেই তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা
তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানাকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াডে রাখা হয়নি। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের ম্যাচগুলোতে অংশ নিশ্চিত করতে তাসকিন ও নাহিদ রানাকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে। আফগানিস্তান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ দলের বাহিরে হওয়ায় এই ম্যাচটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের অংশ নয়। ফলে বাংলাদেশ কিছুটা কৌশলী ভূমিকা নিয়েছে। তাছাড়াও নাহিদ রানা বেশ কিছু দিন ধরে ইনজুরিতেও রয়েছেন।
হেড টু হেডে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের কে এগিয়ে
হেড টু হেডে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান নিজেদের মধ্যে ২ টি ম্যাচে অংশগ্রহন করেছে। ১ টিতে বাংলাদেশ আর ১ টিতে আফগানিস্তান জয় লাভ করেছে। ২০১৯ সালে চট্রগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২২৪ রানের বড় জয় পেয়েছিল আফগানিস্তান। অন্যদিকে ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ ৫৪৬ রানের বিশাল জয় পেয়েছিল। আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের উত্তরোত্তর উন্নতিতে এই ম্যাচটিতে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মনে করা হচ্ছে।
জয়ের জন্য বাংলাদেশকে কি করতে হবে
বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বে যেকোন দলের জন্য আফগানিস্তানকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ধরা হয়। যদিও বাংলাদেশের বিপক্ষে এই টেস্টের জন্য এখনো কোন স্কোয়াড ঘোষণা করেনি আফগানিস্তান। তবুও ধরে নেয়া যায় এই ম্যাচটি জিততে হলে বাংলাদেশকে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। বাংলাদেশেকে সবচেয়ে বেশি ভোগাতে পারে প্রতিপক্ষের স্পিন অ্যাটাক। রশিদ খানের বিপক্ষে বরাবরই দুর্বল বাংলাদেশ। এমনকি বাংলাদেশকে হারানোর টেস্টে বাংলাদেশকে একাই ভুগিয়েছেন রশিদ খান। সেই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট আর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে একাই ধসিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে ধরেই নেয়া যায় এই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে আফগানিস্তান ও রশিদ খানের স্পিন।
বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে যত দুশ্চিন্তা
বরবরই বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে যেকোন ম্যাচের আগেই দুশ্চিন্তা থাকে। টপ অর্ডার রান পেলে মিডল অর্ডারে ধস আবার মিডল অর্ডারে রান পেলে টপ অর্ডারে ধস এরকম ভাবেই চলছে বাংলাদেশের ব্যাটিং সাম্প্রতিক সময়ের ম্যাচগুলোটে টপ অর্ডার রান পেলেও মিডল অর্ডারে দায়িত্ব নিতে পারেনি ব্যাটাররা। লিটন কুমার দাস ও মুশফিকুর রহিমের সাম্প্রতিক ফর্মের পতন বাংলাদেশকে ভালভাবে ভোগাচ্ছে। সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও লিটন দাস শেষ ৩ ইনিংসে ডাক মেরেছেন। তাছাড়াও শর্ট সিলেকশনেও বাংলাদেশ টেস্টে অনেক পিছিয়ে।
মূল পেসাররা বাহিরে থাকায় ভুগতে পারে বাংলাদেশ
এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলের মূল পেসার নাহিদ রানা আর তাসকিন আহমেদ না থাকায় বাংলাদেশ ভুগতে পারে। এমনিতেই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ফিটনেস ধরে রাখতে টেস্ট স্কোয়াডে দীর্ঘদিন ধরে খেলছেন তা মোস্তাফিজুর রহমান। এর মধ্যে তাসকিন ও নাহিদ রানার না থাকা বাংলাদেশের পেস বোলিং লাইন আপকে দুর্বল করে তুলতে পারে। তবে দলে থাকা হাসান মাহমুদ ও খালেদ আহমেদ কাউন্টি ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বল করতে পারলে হয়তো বাংলাদেশ পেস বোলিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারবে।