বাংলাদেশের ক্রিকেট ফ্যান বিশ্বক্রিকেটে সেরা। ক্রিকেটের জন্ম ১৬ দশকের শেষের দিকে ইংল্যান্ডে। ইংল্যান্ডে ক্রিকেটের জন্ম হলেও স্পোর্টসে ক্রিকেট তাদের প্রধান খেলার আকর্ষণে নেই। মুলত যে দলগুলো ফুটবলে ভাল সেই দলগুলোর ফ্যানদের কাছে ফুটবলই সবকিছু। উপ-মহাদেশের দলগুলোর বেশিরভাগই ফুটবলে খুব বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। ফলে ক্রিকেটের প্রতি তাদের টান বেশি। আর বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্রিকেট এক আলাদা আবেগের নাম।
Table of Contents
Toggleবাংলাদেশের খেলা মানে যেন এক উৎসবমুখর পরিবেশ
বাংলাদেশের যেদিন আন্তর্জাতিক ম্যাচ থাকে সেদিন পূরো বাংলাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। দেশের যেকোন ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লাল সবুজের পতাক গায়ে জড়িয়ে, শরীরে ট্যাটু একে, ব্যানার নিয়ে হাজার হয় হাজার হাজার বাঙ্গালি। মাঠে হাজির হতে না পারা লক্ষ লক্ষ লোক চায়ের দোকানে, শপিং মলে, এমনকি কর্পোরেট অফিসের হল রুমে হাজির হয় খেলা উপভোগ করার জন্য। আর মাঠে বসে টাইগার শোয়েবরা স্লোগানে মুখরিত করে রাখে পুরো স্টেডিয়াম।
ম্যাচের দিনের আয়োজনে কি থাকে টাইগার্স ফ্যানদের:
- ম্যাচের দিন আয়োজন করে ভাল রান্না করা হয়
- সব বন্ধুবান্ধবরা একত্রে খেলা দেখতে বসে
- বাংলাদেশ ভাল খেললে প্রতি মুহুর্তে উৎযাপনের ধ্বনি শোনা যায়
- মোস্তাফিজ, লিটনদের উৎসাহ দিতে মাঠে উপস্থিত থাকে হাজারো টাইগার্স ফ্যান
- জয় পেলে রাতভর উৎযাপনের মাতে পুরো দেশ
সোসাল মিডিয়া ও অনলাইন প্লাটফর্ম থাকে বাংলাদেশের দখলে
- ক্রিকেট সংক্রান্ত যেসব প্লাটফর্ম আছে সেগুলোতে বাংলাদেশের ফ্যানদের সবর উপস্থিতি থাকে সবসময়। ক্রিকবাজ, ইএসপিএন ক্রিকইনফো, উইজডেন সহ সব ধরনের ক্রিকেট ভিত্তিক প্লাটফর্মগুলোতে বাংলাদেশের ফ্যানদের উপস্থিতি সবসময় টপে থাকে। বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে যেকোন ধরনের পোস্টে হাজার হাজার এনগেজমেন্ট থাকে। যা যেকোন দেশের ক্রিকেটের চেয়ে বেশি। এমনকি ভারতের মত ১৪০ কোটিরও বেশি জনগোষ্ঠীর দেশের মানুষও অনলাইন প্লাটফর্মে এত এনগেজমেন্টে আসেনা। তাছাড়াও অনলাইনের যেকোন জরিপে বাংলাদেশীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
কিভাবে বাংলাদেশের দখলে সোসাল মিডিয়া প্লাটফর্ম:
- বাংলাদেশের ক্রিকেট ফ্যান সোসাল মিডিয়ায় সরব
- অনলাইন যুদ্ধে বাংলাদেশের ক্রিকেট ফ্যানরা সেরা
- সব ক্রিকেট প্লাটফর্মে বাংলাদেশিদের এনগেজমেন্ট সবচেয়ে বেশি
- ক্রিকেট নিয়ে সোসাল মিডিয়া আলোচনায় টাইগার্স সমর্থকরা সেরা
ক্রিকেট ফ্যানদের আবেগের বহি:প্রকাশ
বাংলাদেশের জয়ে দেশ এবং দেশের বাহিরে যেনো আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। যে জোয়ারে সামিল হয় দেশে থাকা সর্বস্তরের মানুষ এমনকি প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত। তাছাড়াও দেশের বাহিরে থাকা প্রবাসীরাও আনন্দে মেতে ওঠে। রাতজুড়ে চলে মিছিল আর মুখে মুখে বাজে ভুভুজেলা। ফেসবুক সহ সব সামাাজিক মাধ্যমে ও ডিজিটাল প্লাটফর্মে চলে প্রশংসা আর গর্বের আলোচনা। ম্যাচ জেতানো খেলোয়াড়দের পারফরমেন্সের প্রশংসা করে তার বংশীয় পরিচয় পর্যন্ত তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশের জয়ে যেমন বাংলাদেশীদের মধ্যে আনন্দের বহি:প্রকাশ দেখা যায়। তেমনি দল পরাজিত হলে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো জাতি। গ্যালারীতে থাকা দর্শকদের মধ্যে দেখা যায় পিন ড্রপ নিরবতা।হারার কারণ খুঁজতে গিয়ে ক্রিকেটারদের প্রতি নিজেদের ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটান ভক্তরা। খেলোয়াড়দের পারফরমেন্স নিয়ে চুলচেড়া বিশ্লেষণ করে নিজেদের ক্ষোভ সোসাল মিডিয়ায় জানান দেন ভক্তরা। এমনকি বাংলাদেশের হারে খাওয়া পর্যন্ত বন্ধ করতে দেখা যায় বাংলাদেশকে। অনেক সময়ে আবেগের বশবর্তী হয়ে বাংলাদেশের খেলা আর না দেখারও প্রতিশ্রুতির কথা জানায় দর্শকরা। যদিও পরে আবেগ ভুলে আবার বাংলাদেশকে সমর্থন জানাতে মাঠে উপস্থিত হন ভক্তরা।
বিশ্বের সব প্রান্তে বাংলাদেশি ফ্যানদের সরব উপস্থিতি
বিশ্বের যে প্রান্তেই খেলা হোক না কেন বাংলাদেশিদের সরব উপস্থিতিতে মাঠ থাকে প্রাণবন্ত। এমনকি ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের খেলা হলেও হোম ক্রাউডদের চেয়ে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি থাকে বেশি। নাসের হুসাইন, হার্শা ভোগলে সহ সব ধারাভাষ্যকারদেরকেই বাংলাদেশের ফ্যানদের প্রশংসা করতে দেখা যায়। এমনকি ভৌগলিক সীমারেখা অতিক্রম করেও বাংলাদেশি জাতি কতটা এক তা দেখে প্রশংসায় ভাসিয়ে দেন বাংলাদেশের সমর্থকদের।
ক্রিকেট ফ্যানে সেরাদের সেরা বাংলাদেশ
বাংলাদেশের ক্রিকেট ফ্যানদের এত আবেগ ক্রিকেটকেই যেন আরো মুল্যবান খেলায় পরিণত করেছে। যেকোন খেলায় দর্শকদের সমর্থন ও ভালবাসা খেলাটির গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়। ক্রিকেট হয়তো আইসিসির নানা পদক্ষেপে গ্লোবাল খেলায় পরিণত হতে পারেনি। কিন্তু বাংলাদেশিরা ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসা দেখিয়ে বিশ্ব দরবারেই ক্রিকেটকে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। এমনকি ক্রিকেটে বাংলাদেশ পরাশক্তি না হলেও সব পরাশক্তি দলের সমর্থকদের চেয়ে বাংলাদেশি সমর্থকরা অনেক এগিয়ে। হয়তো এই ভালবাসাই একদিন বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চ থেকে বিশ্বকাপ ছিনিয়ে আনতে সাহায্য করবে। আর সেই পথ খুব বেশি দুরে নয়।