ক্রিকেট মাঠে আমরা অনেক প্রকারের আউট দেখতে পাই। কিছু আউট আছে যেগুলো নিয়ে আমরাই জানিনা এটা ক্রিকেটের নিয়মে আউট কিনা। ক্রিকেটের নিয়মপ্রণেতা সংস্থা যাকে ধরা হয় তা হল মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। এমসিসির নিয়মে একজন ব্যাটার আউট হতে পারে ১০ ভাবে। ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি হলেও কপিরাইট বা আইন অধিকার রয়েছে শুধু এমসিসির। তা অন্য বিষয় আপাতত আমরা প্রত্যেকটি আউট নিয়ে আলোচনায় ফিরি।
Table of Contents
Toggle১. বোল্ড
ক্রিকেটের সবচেয়ে পরিচিত ও সহজ আউট যেটিকে ধরা হয় সেটি হল বোল্ড আউট। যে আউটটিতে আম্পায়ারদেরও ডিসিশন নিতে কষ্ট করতে হয়না। এমসিসির ক্রিকেটের ৩২ নম্বর আইন অনুযায়ী কোন লিগেল ড্যালিভারি স্টাম্পে যেকোন ভাবে আঘাত করার পর যেকোন একটি বেল পড়ে গেলে আউট বলে গন্য হবে। তবে স্টাম্পে আঘাত হানার পরও বেল না পড়লে ব্যাটার নট আউট হিসেবে গন্য হবে। তাছাড়া, ওভার স্টেপিং এবং ব্যাটসম্যান সোজা হয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় তার কোমরের উপর দিয়ে বল ফুলটস গিয়ে স্টাম্পে গিয়ে আঘাত করে বেল পড়ে গেলেও ব্যাটার নটআউট হিসেবে গন্য হবে।
২. ক্যাচ
এমসিসির ৩৩ নং ধারায় ক্যাচ আউটের বিষয়ে বলা আছে। ক্যাচ আউটের ক্ষেত্রে ব্যাট, গ্লাভস বা ব্যাটের হাতলে লেগে বল মাটি স্পর্শ করার আগে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রন নিয়ে লুফে নিতে পারে তবে ব্যাটার আউট বলে গন্য হবে। ক্যাচ আউটের ক্ষেত্রে বলের উপর নিয়ন্ত্রনের নির্দিষ্ট কোন সময় নেই। শুধু বল আর নিজের শরীরের উপর নিয়ন্ত্রন সহ ক্যাচ ধরতে পারলেই হবে। তবে বাউন্ডারি লাইনের বাহিরে ফিল্ডার চলে গেলে ক্যাচ শূন্যে থেকে মাঠের ভিতরে পাঠিয়ে মাঠের ভিতর থেকে ক্যাচ নিলে আউট হবে। ক্যাচ ধরলেও নো এবং ডেড বল আম্পায়ার কতৃক ঘোষিত হলে নট আউট হিসেবে গন্য হবে।
৩. এলবিডব্লিউ
ক্রিকেট মাঠের সবচেয়ে আলোচিত আউট হল এলবিডব্লিউ আউট। এলবিডব্লিউ আউট ছাড়া অন্য আউটে শতভাগ নিয়মের মধ্যে আউট ঘোষিত হলেও এই আউটে আম্পায়ারের অনেকটা প্রভাব থাকে। যেখানে অনেক সময় আম্পায়ার্স কলের কারনে বলার অথবা ব্যাটার আনলাকি হতে পারে। বল যদি ইন লাইন অথবা অফ স্টাম্পের বাহিরে ড্রপ করে ব্যাট অথবা গ্লাভসে না লেগে শরীরের অন্য যেকোন অংশে আঘাত করে স্টাম্পে লাগে তাহলে ব্যাটার আউট হিসেবে গন্য হবে। তবে সেক্ষেত্রে যেটি দেখতে হয় ব্যাটার শর্ট খেলার চেষ্টা করেছিল কিনা। ব্যাটার শর্ট খেলার চেষ্টা করার পর শরীরে আঘাত করলে বল ইন লাইন থাকতে হয়। তখন অফ স্টাম্পের বাহিরে আঘাত করে ব্যাট অথবা গ্লাভস ছাড়া শরীরে আঘাত করলে আউট হবে না। তবে ব্যাটসম্যান শর্ট খেলার চেষ্টা না করলে সেক্ষেত্রে অফ স্টাম্পের বাহিরে থেকেও ব্যাটারের শরীরে আঘাত করলে আউট হবে। আবার রিভিউয়ের ক্ষেত্রে, বলের ৫০ ভাগের কম যদি স্টাম্পে আঘাত করে তবে মাঠের আম্পায়ার যে ডিসিশন দিবে সেই ডিসিশনই ফাইনাল হিসেবে গন্য হবে। তবে কোন অবস্থায় লেগ সাইটে পিচ করে আসা বলে এলবিডব্লিউ হবে না।
৪. রান আউট
রান আউটের ক্ষেত্রে বল ডেট হওয়ার আগে ব্যাটার ক্রিজের বাহিরে অবস্থান করলে কোনভাবে যদি বল স্টাম্পে লেগে বেল পড়ে যায় তবে ব্যাটার আউট হিসেবে গন্য হবে। স্ট্রাইকিং এ থাকা ব্যাটার যদি বল হিট করে বোলার বরাবর সেই সময়ে নন স্ট্রাইকিং থাকা ব্যাটার ক্রিজের বাহিরে থাকলে বোলারের হাতের স্পর্শে পেয়ে বল স্টাম্পে আঘাত করলে নন স্ট্রাইকিং ব্যাটার রান আউট হিসেব বিবেচিত হবে। বল ডেড হওয়ার নিয়ম হল বলটি চুড়ান্তভাবে উইকেটরকক্ষক অথবা অন্য ফিল্ডারের হাতে জমা হয়ে দুদলের খেলোয়াড়রাই যখন বুঝতে পারেন এই বলে আর রান আউট হওয়া সম্ভব না ঠিক তখনই বলটি ডেড হিসেবে বিবেচিত হবে। ক্রিকেটের আলোচিত মানকাট আউটও রান আউটের খাতায় পড়ে। মানকাড আউটের ক্ষেত্রে বোলার তার একশন শুরু করে ডেলিভারির উদ্দেশ্যে হাত উপরে তোলার পর স্টাম্পিং করলে মানকাড আউট হবে না। এর আগেই স্টাম্প ভেঙ্গে দিলে নন স্ট্রাইকার ব্যাটার ক্রিজের বাহিরে থাকলে ব্যাটার আউট হিসেবে গন্য হবে।
৬. হিট উইকেট
হিট উইকেটর ক্ষেত্রে ব্যাটার বল ফেস করার সময়ে শরীরের যেকোন অংশ অথবা ব্যাট উইকেটে লেগে বেল পড়ে গেলে ব্যাটার আউট হিসেবে গন্য হবে। বল মিসিং করার পর উইকেটরক্ষক যদি বলের নিয়ন্ত্রন নিজের গ্লাভসে নেয়ার পর শরীরের যেকোন অংশ দিয়ে উইকেট ভেঙ্গে দেয় তবে ব্যাটার আউট হবে। তবে বলের নিয়ন্ত্রন না নিয়ে ভেঙ্গে দিলে ব্যাটার নট আউট থাকবে।
৭. অবস্ট্রাকটিং দি ফিল্ড
বলের স্বাভাবিক গতিপথকে ইচ্ছাকৃতভাবে রুখে দিলে ব্যাটার এই আউটের শিকার হন। হাত দিয়ে বল ঠেকানো যেটা আগে হ্যান্ডেল্ড দ্যা বল নামে খ্যাত ছিল সেই আউটটি এখন অবস্ট্রাকটিং দি ফিল্ডে ঢুকানো হয়েছে। এই আউটের সর্বশেষ শিকার হয়েছেন মুশফিকুর রহিম ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। তাছাড়া ক্যাচ ধরায় বাঁধা দেয়া, ইচ্ছাকৃতভাবে থ্রো এর লাইনে চলে আসা, ফিল্ডারের অনুমতি ছাড়া বল কুড়ানো এই আউটের অন্তর্ভুক্ত।
৮. হিট দ্যা বল টুয়াইস
প্রথমবার বলে আঘাত করার পর বলটি ডেট না হওয়া পর্যন্ত রান নেয়ার উদ্দেশ্য ব্যাটার দ্বিতীয়বার শরীর অথবা ব্যাট দিয়ে বলটিকে দুরে পাঠালে আউট হবেন। তবে বল উইকেটে আঘাত হানতে যাচ্ছে এই অবস্থা থেকে বলটিকে ব্যাট অথবা শরীর দিয়ে সরিয়ে দিলে আউট হবে না। এই আউটটি নো বল হলেও হতে পারে। এই আউটটি এ পর্যন্ত ১ বারই ক্রিকেটে হয়েছে সেটি ১৯৫১ সালে ইংল্যান্ডের ব্যাটার লেন হাটন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই আউটের শিকার হয়েছিলেন।
৯. টাইমড আউট
এই আউটটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাটার মাঠে উপস্থিত হয়ে বল ফেস করার উপযোগী অথবা নন স্ট্রাইকিং প্রান্তে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে না পারলে ফিল্ডিং দলের আবেদনের প্রেক্ষিতে আউট হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক ওয়ানডে আর টেস্ট ফরম্যাটে ব্যাটার আউট হওয়ার পর নতুন ব্যাটার ২ মিনিট সময় পান। তবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ড দেয়া হয়। প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে এটা ৩ মিনিট পর্যন্ত মেনে নেয়া হয়। ক্রিকেটে এ পর্যন্ত ১০ জন ব্যাটার এই আউটের শিকার হয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই ঘটনা ঘটেছে ৩ বার। যার প্রথমটি সাকিব আল হাসানের আবেদনের প্রেক্ষিতে অ্যাঞ্জেলা ম্যাথুস ২০২৩ সালে আউট হয়েছিলেন। এরপর আরও দুইবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই ঘটনা ঘটেছে।
১০. রিটায়ার্ড আউট
অ্যাম্পায়ারের অনুমতি ছাড়া কিংবা গুরুতর কোন চোঁটের কারণ ছাড়াই মাঠ ছেড়ে গেলে রিটায়ার্ড আউট হিসেবে গন্য হবেন। তবে শারীরিক অসুস্থতা বা আঘাত জনিত কারনে মাঠ ছেড়ে গেলে রিটায়ার্ড হার্ড হিসেবে মাঠে ফিরে আসতে পারেন। রিটায়ার্ড হার্টে ব্যাটার নট আউট হিসেবে বিবেচিত হন। রিটায়ার্ড আউটে ব্যাটার আউট হিসেবে বিবেচিত হন।