আইপিএল দলগুলোতে নিজেদের মালিকানা পেতে ভারতের বড় বড় ব্যবসায়ীরা প্রচুর আগ্রহ প্রকাশ করে থাকে। যেখানে বাংলাদেশে বিপিএলের দলগুলোর মালিক পাওয়া কঠিন সেখানে কাড়ি কাড়ি টাকা নিয়ে আইপিএল দল পেতে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে অপেক্ষায় থাকে বিজনেস জায়ান্টরা।
Table of Contents
Toggleআইপিএলে আগ্রহী কত মানুষ?
বর্তমান বিশ্বে ক্রিকেট জনপ্রিয় খেলায় পরিনত হওয়ার অন্যতম কারণ ভারত। বর্তমানে ভারতে প্রায় ১৪৪ কোটি মানুষের বসবাস। যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১৭ থেকে ১৮ ভাগ। শুধুমাত্র ভারতেরই প্রায় ৬৫ থেকে ৬৬ কোটি মানুষ ক্রিকেট ভালবাসে। যা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় সাড়ে তিন গুন। তাই বলা যায় ক্রিকেটকে টার্গেট করলে একি সাথে লাভ, ব্রান্ডিং আর প্রভাব বিস্তার সব কিছুরই সুযোগ থাকছে।
আইপিএল চলাকালীন শুধু ভারতে নয় বিশ্বজুড়েই ক্রিকেটকে ভালবাসেন যারা তাদের প্রায় সবাই আইপিএল ম্যাচে কোন না কোন ভাবে চোখ রাখে। ২০২৬ সালের আইপিএল প্রথম সপ্তাহেই ৫১ কোটিরও বেশি মানুষ দেখে ফেলেছে। বর্তমানে তা প্রায় ১০০ কোটিরও কাছাকাছি ছড়িয়েছে। বিশ্বে অনেক দেশের কাছে ক্রিকেট এখনো অপরিচিত খেলা হলেও জনপ্রিয়তার কাতারে ঢুকে গেছে আইপিএলের এই আসর।
দলগুলোর দাম বাড়ল কিভাবে?
শুধু খেলাধুলায় না ভারতের সংস্কৃতিও বলা যায় ক্রিকেটকে। ক্রিকেট যেন ভারতীয়দের রক্তে মিশে আছে। শুরুর দিকে আইপিএলের সবচেয়ে দামি দল ছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ানন্স। ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানীর মালিকানাধীন রিলায়েন্স ৯০০ কোটি টাকারও বেশি দামে কিনে নিয়েছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে। আর সবচেয়ে কমদামী দল ছিল রাজস্থান রয়্যালস যা বর্তমানে ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার সমান।
আইপিএল দলগুলোর শুরুর দিকের দাম এখন আকাশচুম্বী। আরসিবি ২০২৬ এ এসে বিরলা গ্রপের কাছে প্রায় ১৬৫০০ কোটি ভারতীয় টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা যেকোন আইপিএল দলের জন্য রেকর্ড দাম। আরসিবির এই দাম পাওয়ার পিছনে বিরাট কোহলীর মত তারকা ক্রিকেটার এই দলে থাকা একটা কারণ বলে ধরা হয়। বিরাট কোহলী দীর্ঘ ১৮ বৎসর ধরে এই ফ্রাঞ্চাইজি দলের হয়ে খেলছেন। আর বিরাট কোহলীর নিজের ব্র্যান্ড ভ্যালু নিয়ে নতুন করে বলার নেই।
দলের মালিকদের কি লাভ
আইপিএলে দল কিনতে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে ঠিক কি লাভ পায় মালিকরা? ঠিক এটিই যেন একটি হাজার কোটি টাকার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিসিসিআইয়ের আয়ের বড় অংশ আসে মিডিয় স্বত্ব ও ডিজিটাল মাধ্যমে সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি করে। তাছাড়াও, জার্সি,হেলমেট, স্টেডিয়ামে টিকিট বিক্রি সহ আরও অনেক ক্ষেত্র থেকে আয় করে থাকে বিসিসিআই আর মালিকানাধীন দলগুলো। বিসিসিআই তার আয়ের প্রায় ৫০ ভাগ দলগুলোর মধ্যে ভাগ করে দিয়ে থাকে। এর মধ্যে ৪৫ ভাগ ১০ টি দলের মধ্যে আর বাকি ৫ ভাগ ফাইনলাল প্রাইজমানি হিসেবে রাখে বিসিসিআই।
এর বাহিরে দলগুলো যে মালিকানার আওতায় থাকে সেই মালিকের বিভিন্ন ব্যবসার স্পন্সরেও ভুমিকা রাখে দলগুলো। ফলে একই সাথে আয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়িক ব্র্যান্ডেরও প্রসারের মাধ্যমেও লাভবান হয় মালিকরা। তাছাড়াও, সামাজিক আধিপত্য বিস্তারেও লাভবান হয় দলগুলো। আইপিএলের যেকোন দলের সাথে যুক্ত থাকা মানেই শত কোটি মানুষের পরিচিতি লাভ। যা দলগুলোর মালিকদের নিজস্ব ব্যবসাকে আরও লাভবান করে তোলে।
বিদেশী বিনেয়োগ আনতেও আইপিএলের জুড়ি নেই। আইপিএলের ভ্যালু এখন সাড়ে ১৮ কোটি বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। শুধু তাই নয় ডিজনি হটস্টার, জিও হটস্পট ছাড়াও রিল্যায়েন্সের মত প্রতিষ্ঠান গুলোও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে। আইপিএলের বদৌলতে ক্রিকেট এখন সংযুক্ত আরব আমিরা, অ্যামেরিকা, কানাডা সহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। যার মালিকানায় রয়েছে ইন্ডিয়ার দলগুলোর মালিক সহ বাহিরের বিনিয়োগকারীরাও।
আইপিএলে দল পেতে হতে হয় এলিট শ্রেনীর ব্যবসায়ী
আইপিএল নিজেদেরে ব্র্যান্ড ভ্যালু এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে চাইলেই যে কেউ দল কিনতে পারবে না। ব্যাবসায়িক জগতে খ্যাতি, দল নিয়ে চালানোর সামর্থ্য সহ অনেক শর্ত পূরণ করে দল পেতে হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফ্রাঞ্চাইজি টূর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিয়ে সমস্যা রয়েছে। সেখানে আইপিএলের দলগুলোর মালিকরা যত দ্রুত পেমেন্ট পরিশোধ করতে পারে ততই যেন হাফ ছেড়ে বেঁচে যায়। ক্রিকেট ফ্রাঞ্চাইজি লীগ গুলোর মধ্যে আইপিএল এবং বিগ ব্যাশ এই দুটি টূর্নামেন্টেই শুধু খেলোয়াড়দের পেমেন্ট ইস্যু নিয়ে কোন সমস্যা নেই। মূলত বিসিসিআইয়ের নিয়ন্ত্রিত তত্বাবধান থাকায় অনিয়েমের কোন সুযোগ নেই দলগুলোর।